সোমবার এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সেই নির্বাহী আদেশের কিছু অংশ বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত করেছে, যা আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মেইল-ইন ভোটিং বা ডাকযোগে ভোটদান প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। ৬-৩ ভোটে দেওয়া এই রায়ে আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি আবেদনের প্রেক্ষিতে নিম্ন আদালতের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। এর আগে ২৩টি ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় এই আদেশের কিছু অংশ কার্যকর করা থেকে সরকারি সংস্থাগুলোকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছিল নিম্ন আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে ভোট দেওয়ার যোগ্য বাসিন্দাদের তালিকা তৈরির কাজ এগিয়ে নিতে পারবে। তবে ডাক বিভাগের (ইউএসপিএস) মাধ্যমে মেইল ব্যালট সংক্রান্ত নতুন পদ্ধতি তৈরির বিষয়টি নিয়ে আলাদা একটি আইনি লড়াই চলছে। ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ ইন্দিরা তালওয়ানি এর আগে এক আদেশে ডাক বিভাগকে এ সংক্রান্ত নতুন নিয়ম প্রণয়ন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
বিচারক তালওয়ানি তার রায়ে জানিয়েছিলেন, ফেডারেল নির্বাচনের প্রক্রিয়া পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক কর্তৃত্ব প্রেসিডেন্টের নেই। এই মামলাটি মূলত ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি জোটের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, তাদের এই সিদ্ধান্তের মানে এই নয় যে, সরকারি নেওয়া যেকোনো পদক্ষেপ আইনত বৈধ। আদালতের অসংলগ্ন এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিষয়টি সময় সাপেক্ষ, তবে এই আদেশটি সরাসরি অঙ্গরাজ্যগুলোর কোনো ক্ষতি করছে না, তাই জেলা আদালতের সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার এখতিয়ার ছিল না।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে অঙ্গরাজ্যগুলো ভবিষ্যতে প্রশাসনের চূড়ান্ত করা যেকোনো নীতির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে। উল্লেখ্য, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য অঙ্গরাজ্যগুলো ভোটারদের কাছে মেইল ব্যালট পাঠানো শুরু করার কথা রয়েছে।

