জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আইনি আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময়ের ঠিক আগে রাজধানী লুসাকাসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ আদালতগুলো সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলীয় প্রার্থী ব্রায়ান মুন্দুবিল নির্বাচনের ফলাফলকে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে আত্মগোপনে রয়েছেন।
সোমবার ছিল আইনি আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন। এই আবেদনটি সফল হলে ১ সেপ্টেম্বর হতে যাওয়া নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দে হিচিলেমার অভিষেক অনুষ্ঠানে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সোমবার আদালতের প্রাঙ্গণে যাওয়া আইনজীবীদের সেখান থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে। একজন আইনজীবী বিবিসির কাছে দাবি করেছেন, সশস্ত্র তিন ব্যক্তি তার গাড়ির কাছে এসে পরিচয় দিয়ে তাকে এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়।
লুসাকার হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট এবং সাংবিধানিক আদালতের চত্বরসহ স্থানীয় বেশ কিছু আদালত সিলগালা করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে পুলিশের অস্বাভাবিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিচার বিভাগীয় এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার নির্দেশনায় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে কর্মীদের অফিসে না আসতে বলা হয়েছে, তবে সুনির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তার হুমকির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
জাম্বিয়ার ল অ্যাসোসিয়েশন (এলএজেড) এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, আদালতের এই আকস্মিক বন্ধ এবং চত্বরে ভারী অস্ত্রধারী সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি ন্যায়বিচারের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়াই এই পদক্ষেপ নেওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বিরোধী নেতা ইমানুয়েল মুয়াম্বা অভিযোগ করেছেন, ব্রায়ান মুন্দুবিল যেন আইনি লড়াই শুরু করতে না পারেন, সেজন্যই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় একজন বিরোধী নেতা নিহত এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্রায়ান মুন্দুবিল নিজেও গ্রেপ্তারের ঝুঁকি এড়াতে একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার সুরক্ষায় আত্মগোপনে আছেন। এদিকে, আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও হাকাইন্দে হিচিলেমার অভিষেকের প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। ন্যাশনাল হিরোস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানের আয়োজন তদারকি করতে সরকারি কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
গত ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা শান্তিপূর্ণ বললেও, প্রচারণার সময় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিরোধী দলের ওপর বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দল জানিয়েছে, নির্বাচনের সময় সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে ভীতি তৈরি করেছিল এবং ফলাফল গণনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব ছিল। বর্তমানে পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো, যারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

