ইরানের সাথে চলমান সামরিক সংঘাতে মার্কিন জনগণের সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সোমবার, ২৪ আগস্ট প্রকাশিত নতুন একটি জনমত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র ৩১ শতাংশ আমেরিকান মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন। যুদ্ধের শুরু থেকে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন জনসমর্থনের হার।
হোয়াইট হাউস এই জরিপের ফলাফলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল এক বিবৃতিতে জানান, আমেরিকান জনগণের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাদের কমান্ডার-ইন-চিফ, যিনি যেকোনো হুমকি নির্মূল করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিক সেই কাজটিই করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইংল আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছিলেন এবং তার সাহসী নেতৃত্বের কারণেই আমেরিকানরা বর্তমানে বেশি নিরাপদ বোধ করছেন। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিয়মিতভাবেই তার জনপ্রিয়তা কমার ইঙ্গিত দেওয়া জরিপগুলোকে সমালোচনা করে আসছেন। গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক ইউগভ/ইকোনমিস্ট প্রজেকশন অনুযায়ী, আইডাহো, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া এবং ওয়াইমিং বাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের হার নেতিবাচক।
২৪ আগস্ট নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ট্রাম্প লেখেন, কট্টর বামপন্থী ডেমোক্র্যাটরা ভুয়া জরিপ নিয়ে উন্মাদ হয়ে গেছে এবং তারা এমন সব জরিপ প্রকাশ করছে যা আগে কখনো দেখা যায়নি।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এখন সামরিক অভিযানের পরিবর্তে অর্থনৈতিক আক্রমণের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরান থেকে রাজস্বের উৎস বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করবে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি এখনো বজায় রয়েছে। একই সাথে পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ সারা দেশে সফর করছেন এবং অস্ত্র প্রস্তুতকারকদের দ্রুত অস্ত্র উৎপাদনের আহ্বান জানাচ্ছেন। ২৪ আগস্ট ওসকোশ, উইসকনসিনে অস্ত্র কারখানা কর্মীদের উদ্দেশ্যে হেগসেথ বলেন, তিনি চান তারা যেন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে বিজয়ের জন্য অস্ত্র উৎপাদন ত্বরান্বিত করেন।
উল্লেখ্য, রয়টার্সের এই জনমত জরিপটি সারা দেশের ১,২১৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকের ওপর পরিচালনা করা হয়েছে এবং এর ত্রুটির হার +/- ৩ শতাংশ পয়েন্ট।
