মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত যৌন পাচারের অভিযোগে দণ্ডিত গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের সাজা ও দোষী সাব্যস্তকরণের রায় বাতিলের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। ২০২১ সালে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট বিচারক পল এঙ্গেলমেয়ার ৬৭ পৃষ্ঠার এক রায়ে ম্যাক্সওয়েলের এই আবেদন খারিজ করে দেন। বিচারক উল্লেখ করেন, ম্যাক্সওয়েল তার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার বিষয়ে কোনো জোরালো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। তিনি ম্যাক্সওয়েলের দাবিগুলোকে "ভিত্তিহীন" এবং "তুচ্ছ" বলে অভিহিত করেন।
বিচারক এঙ্গেলমেয়ার তার রায়ে লেখেন, এই আবেদনের বেশিরভাগ দাবিই আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ ম্যাক্সওয়েল একই যুক্তিগুলো তার মূল আপিলেও উত্থাপন করেছিলেন এবং সেখানে হেরে গিয়েছিলেন। অথবা তিনি চাইলে আপিলে এগুলো তুলতে পারতেন, কিন্তু তা করেননি।
ম্যাক্সওয়েল তার আবেদনে কিছু নতুন তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরেছিলেন, যার মধ্যে দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের বিরুদ্ধে ফেডারেল তদন্তের কিছু সদ্য প্রকাশিত নথিও ছিল। তবে বিচারক বলেন, এই নতুন প্রমাণগুলো উল্টো তার অপরাধকেই আরও বেশি প্রমাণ করে এবং আদালতের আগের আইনি সিদ্ধান্তগুলোর যথার্থতা নিশ্চিত করে। তিনি ম্যাক্সওয়েলের আবেদনটিকে "দীর্ঘ এবং অসংলগ্ন" বলে মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, গত বছর মার্কিন কংগ্রেসে 'এপস্টাইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট' পাস হওয়ার পর বিচার বিভাগ জেফরি এপস্টাইনের তদন্ত সংক্রান্ত ২৫ লাখেরও বেশি পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করে।
বিচারক এঙ্গেলমেয়ার আরও বলেন, ম্যাক্সওয়েলের এই আবেদন লক্ষ্য অর্জনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। মামলার বিচার চলাকালীন উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও নথিপত্র চূড়ান্তভাবে তার অপরাধ প্রমাণ করেছে। তার এই নতুন আবেদনটি মূলত অনুমান, বিকৃতি এবং স্পষ্ট মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে ম্যাক্সওয়েল তার সাজা বাতিলের জন্য বিচারকের কাছে আবেদন করেছিলেন। সেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে, বিচারের আগে তাকে একটি নির্দোষ প্রমাণকারী তথ্য দেওয়া হয়নি এবং ঘটনার দীর্ঘ সময় পর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তবে এর আগেও সাজা বাতিলের একটি চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। গত বছরের শরতে সুপ্রিম কোর্ট তার একটি আপিল খারিজ করে দেয়, যা মূলত একটি নন-প্রসিকিউশন চুক্তির ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছিল।
২০২০ সালে একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে কমপক্ষে এক দশক ধরে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের নির্যাতনে জেফরি এপস্টাইনকে সহায়তা ও অংশ নেওয়ার অভিযোগে ছয়টি মামলা দায়ের করে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি পাঁচটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন এবং তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি টেক্সাসের ব্রায়ানের একটি ন্যূনতম-নিরাপত্তার নারী কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।
এর বাইরে, ট্রাম্প প্রশাসনের এপস্টাইন ফাইলস হ্যান্ডলিং নিয়ে বিতর্কের পর গত গ্রীষ্মে তৎকালীন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চের সাথে দুই দিনব্যাপী এক সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছিলেন ম্যাক্সওয়েল। সেখানে এপস্টাইন এবং তার সামাজিক বলয়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে সম্পর্কের কথা বললেও নতুন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মেলেনি। ফলে বিচার বিভাগ নতুন কারও বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনেনি। এছাড়া প্রতিনিধি সভার ওভারসাইট অ্যান্ড গভর্মেন্ট রিফর্ম কমিটির একটি ভার্চুয়াল শুনানিতে অংশ নিয়ে নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার (ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট) প্রয়োগ করে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান ম্যাক্সওয়েল।

