প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের নীতির সমালোচনা করার জেরে সামরিক বিচার ব্যবস্থার আওতায় আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়েছেন মার্কিন বিমান বাহিনীর মেজর জেসন ওয়াটসন। ওয়াটসনের আইনজীবীদের দাবি, সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে তার পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্যের দায়ে এমন অভিযোগ আনার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
৪০ বছর বয়সী মেজর ওয়াটসন গত কয়েক সপ্তাহে দুবার আটক হয়েছেন। প্রথমবার গত ১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনের সামনে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় তাকে আটক করা হয়। সে সময় তার হাতে ছিল একটি প্ল্যাকার্ড, যাতে লেখা ছিল 'ইমপিচ করুন, দোষী সাব্যস্ত করুন, সরিয়ে ফেলুন'। এটি মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে লক্ষ্য করেই লেখা হয়েছিল। এরপর গত সপ্তাহে সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়াটসন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একজন ব্যর্থ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প সংবিধান লঙ্ঘন করছেন, আইন ভাঙছেন এবং দুর্নীতিতে লিপ্ত থেকে আমেরিকানদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এই মন্তব্যের পরপরই তাকে দ্বিতীয় দফায় আটক করা হয়।
আইনজীবীদের তথ্যমতে, মেজর ওয়াটসনের বিরুদ্ধে তিনটি 'আর্টিকেল ৮৮' লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা মূলত ট্রাম্পের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য করা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আদেশ অমান্য করা এবং একজন কর্মকর্তার জন্য অশোভন আচরণের অভিযোগও রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্ষেত্রে সাধারণত শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগুলো লোকচক্ষুর আড়ালে নেওয়া হলেও, ওয়াটসনের ক্ষেত্রে এটি একটি বিরল ব্যতিক্রম।
ওয়াটসনের গ্রেপ্তারের পর বিমান বাহিনী সচিব ট্রয় মিঙ্ক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, তিনি আশা করেন প্রতিটি বিমান সেনাই সরকার, ব্যক্তিগত আচরণ, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং ইউনিফর্ম পরার ক্ষেত্রে সব আইন ও নীতিমালা মেনে চলবেন। তবে তার আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, মেজর ওয়াটসন তার অবস্থানে অনড় এবং তিনি মনে করেন, অন্যদের যাতে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয় সেজন্যই তিনি এমনটি করেছেন।

