নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু গত শুক্রবার দেশটির নাইজার রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সংঘটিত ভয়াবহ হামলার পর অপরাধীদের ধরতে একটি বিশেষ অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, ওইদিন নামাজের সময় বেশ কয়েকটি মসজিদকে লক্ষ্য করে একই সময়ে হামলা চালানো হয়। একজন স্থানীয় যুব নেতা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় প্রায় ৫০০ জন অপহৃত হয়ে থাকতে পারেন, যদিও এই সংখ্যার সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপহরণকারীদের পোস্ট করা একটি ভিডিওর সূত্র ধরে প্রেসিডেন্ট এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। ওই ভিডিওতে অপহৃতদের একটি বনের মধ্যে বসে থাকতে দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই ধারণা করছিল, এসব হামলার পেছনে রয়েছে ডাকাত দল, যারা নাইজেরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও লুটতরাজ চালিয়ে আসছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই মুক্তিপণ দাবি করার খবর পাওয়া যায়নি।
হামলাকারীরা সামরিক পোশাক পরিহিত ছিল বলে জানা গেছে। তারা ডেকারা, গিদান জানা, সাবন গিদা এবং মাসাকা গ্রামগুলোতে আক্রমণ চালায়। পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন জানিয়েছেন, হামলায় ৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, তবে মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। স্থানীয় এক যুব নেতা ভিডিওটি দেখে তার সম্প্রদায়ের অনেককে শনাক্ত করতে পেরেছেন। তিনি জানান, ভিডিওতে গিদান জানা গ্রামের একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকেও দেখা গেছে, যাকে তারা দাদার মতো দেখেন। পরিবারের সদস্যরা তাদের স্বজনদের জীবিত অবস্থায় দেখে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন, যদিও নিখোঁজ অন্যদের নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না।
স্থানীয় এক ব্লগার জানিয়েছেন, হামলার পর অনেক বাসিন্দা বাড়িঘর ছেড়ে পার্শ্ববর্তী রাজ্য এমনকি বেনিন সীমান্তে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া অনেক আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একজন স্থানীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রামবাসীদের জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা সেখানে ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) পুঁতে রেখেছিল। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরণে পালানোর চেষ্টাকালে এক কিশোর নিহত হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র বায়ো ওনানুগার মাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট তিনুবু এই হত্যা ও অপহরণের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, যারা নিরস্ত্র নাইজেরিয়ানদের ওপর এই কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে, তারা শান্তি ও মানবতার শত্রু এবং তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
চলতি মাসের শুরুর দিকে পুলিশ জানিয়েছিল যে, একই এলাকায় আরও চারটি গ্রাম থেকে অপহৃত ১৪৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়া ও সীমান্ত অঞ্চলে জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, কিছু সশস্ত্র ব্যক্তি স্থানীয় কমিউনিটিতে ঢুকে পড়ছে এবং বাসিন্দাদের ওপর ধর্মীয় বিধিনিষেধ আরোপ করছে।

