বিমানবন্দরে কি আসলেই ‘চ্যাপ্লেন’ বা ধর্মযাজক থাকেন? হ্যাঁ, বাস্তবে এমন পেশা সত্যিই রয়েছে। আর এই বাস্তব পেশাকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে নতুন আট পর্বের সিরিজ ‘দি এয়ারপোর্ট চ্যাপ্লেন’। এলিস ম্যাকক্রেডি ও জ্যুড ট্রয়ের যৌথ সৃষ্টি এবং বনি ময়ার ও টিগ তেরেরার পরিচালনায় এই সিরিজটি দর্শকদের শুরু থেকেই এক টানটান উত্তেজনার মধ্যে রাখবে।
সিরিজটিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অস্ট্রেলীয় মঞ্চ ও পর্দার অন্যতম শক্তিমান অভিনেতা হুগো উইভিং। তাঁর চরিত্রের নাম টবিয়াস ওয়ালেস। টবিয়াস এমন একজন মানুষ, যিনি বিমানবন্দরের প্রায় প্রতিটি সমস্যায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। প্রথম পর্বেই দেখা যায়, কন্ট্রোল রুম থেকে ফোন পেয়ে তিনি এক হুডি পরা আতঙ্কিত ছেলেকে সাহায্য করতে ছুটে যান, যেখানে পুলিশকে বেশ অসহায় দেখায়। বিমানবন্দরে তার এই অতি-সক্রিয়তা তাকে যেন এক ‘হাই-ভিস ভেস্ট পরা ব্যাটম্যান’ হিসেবে উপস্থাপন করে। উইভিংয়ের অভিনয়ে গাম্ভীর্য ও সাধারণ মানুষের সাথে সহজে মিশে যাওয়ার এক চমৎকার সংমিশ্রণ দেখা গেছে।
তবে গল্পে নতুন মোড় আসে যখন বিমানবন্দরে নতুন টার্মিনাল ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন মিরা আনসারি-কোল (শাবানা আজিজ)। মিরা মোটেও টবিয়াসের এই আধ্যাত্মিক বা আবেগীয় সেবাকে ভালো চোখে দেখেন না। প্রথম বৈঠকেই তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়, যখন টবিয়াস তার কাজকে যাত্রীদের মানসিক, আধ্যাত্মিক ও ব্যবহারিক সহায়তা হিসেবে বর্ণনা করেন এবং দৈনিক কাজের রিপোর্ট জমা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ‘আধ্যাত্মিক জরুরি অবস্থা’র অজুহাতে বৈঠক ছেড়ে চলে যান। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বনাম এক একগুঁয়ে কর্মীর এই দ্বন্দ্ব সিরিজটিকে আরও উপভোগ্য করে তুলেছে।
সিরিজটির চিত্রনাট্য লিখেছেন ম্যাকক্রেডি, মিথিলা গুপ্ত, সারাহ বাসিউনি এবং বিদ্যা রঞ্জন। যদিও কাহিনীর বিন্যাস কিছুটা ছড়ানো মনে হতে পারে, তবে কয়েকটি পর্ব জুড়ে একটি রহস্যময় ধারা বজায় রয়েছে। যেমন—প্রার্থনা কক্ষে পাসপোর্ট ও ফোন ছাড়া উদ্ধার হওয়া এক রহস্যময় তরুণী আশা চাওলা (কবিতা আনন্দশিবম), যে কোনো কথা বলতে রাজি নয়। এছাড়া এয়ারলাইন সার্ভিস ম্যানেজার ক্যাথ বার্নস (ক্লডিয়া কারভান) চরিত্রটি টবিয়াসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে গল্পে চমৎকার ভারসাম্য এনেছে।
সাংবাদিকদের জন্য এই সিরিজের প্রথম চারটি পর্ব উন্মুক্ত করা হয়েছিল, যার প্রতিটি পর্বই ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। সিরিজটি বিশ্বব্যাপী নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাবে এবং অস্ট্রেলিয়ার দর্শকরা এটি দেখতে পাবেন এসবিএস (SBS) ও এসবিএস অন ডিমান্ডে। যারা একটু ভিন্নধর্মী ও দ্রুতগতির ড্রামা পছন্দ করেন, তাদের জন্য ‘দি এয়ারপোর্ট চ্যাপ্লেন’ একটি দারুণ উপভোগ্য সিরিজ হতে যাচ্ছে।

