কানেকটিকাটের ৪২ বছর বয়সী সার্টিফাইড নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাশলি টনটনের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীত তারকা টেলর সুইফট। গত ১৮ জুলাই রোড আইল্যান্ডের আই-৯৫ সাউথ মহাসড়কে গাড়ি চালানোর সময় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন অ্যাশলি। ভারী বৃষ্টিতে নিয়ন্ত্রণ হারানো একদল কিশোরের গাড়ি দেখে তিনি তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেই মুহূর্তেই আরেকটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি তাদের দিকে ধেয়ে আসে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে গোফান্ডমি (GoFundMe) পেজে উল্লেখ করা হয়েছে, অ্যাশলি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যকে সরিয়ে দিয়ে নিজে সেই ভয়াবহ আঘাত সহ্য করেন। এই আত্মত্যাগের ফলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং গত ১৮ ঘণ্টায় তাকে দুটি বড় অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। সামনে আরও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানা গেছে। অ্যাশলি জানিয়েছেন, খ্রিস্টান নারী হিসেবে তার ধর্মীয় বিশ্বাসই তাকে বিপদে পড়া অপরিচিত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
গত ২৮ আগস্ট সুইফট এই ফান্ডে ৫০ হাজার ডলার অনুদান প্রদান করেন। পাশাপাশি তিনি লিখেছেন, "আপনার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি এবং আপনার পরিবারের জন্য ভালোবাসা পাঠাচ্ছি!" এই অনুদানের পর ২৯ আগস্ট পর্যন্ত তহবিলটিতে মোট ৭৪ হাজার ডলারের বেশি জমা হয়েছে। সুইফটের এই অনুদান সম্পর্কে ফান্ডরাইজারের আয়োজক লরা ওর্টেল্ট বলেন, "এটি নিশ্চিতভাবেই একটি বড় চমক এবং টেলরের উদারতা সুপরিচিত ও প্রশংসিত।"
অ্যাশলি টনটন জানান, তিনি অত্যন্ত বিনম্র এবং কৃতজ্ঞ যে ঈশ্বর তাকে সাহায্য করার জন্য টেলর সুইফটের মতো মানুষের কাছে তার এই গল্প পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমি তাকে সরাসরি জড়িয়ে ধরে ধন্যবাদ জানাতে চাই।" তিনি আরও জানান, তার স্বামী জো টনটন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, যিনি অ্যাশলির সেবায় নিয়োজিত থাকায় তার কর্মস্থলে ছুটি শেষ হয়ে গেছে। এই অনুদান তাদের চিকিৎসার খরচ, ঘরোয়া ব্যয় এবং যাতায়াতের খরচ মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে।
অ্যাশলি জানান, তিনি সবসময়ই সুইফটের গানের ভক্ত এবং রোড আইল্যান্ডের মিসকুয়ামিকুট স্টেট বিচে থাকার সময় তিনি প্রায়ই গায়িকার বাড়িটি দেখতে পেতেন। এদিকে, লরা ওর্টেল্ট, যিনি নিজেও দীর্ঘ ২০ বছর ধরে একজন 'সুইফটি', জানিয়েছেন যে অনেক ভক্ত এখন সুইফটের শুভ সংখ্যা হিসেবে ১৩ ডলার করে অনুদান দিচ্ছেন। ওর্টেল্ট বলেন, "টেলর, আমার হৃদয়ের গভীর থেকে তোমাকে ধন্যবাদ। তুমি আবারও তোমার উদারতা ও মানবিকতা দিয়ে কারো পৃথিবী বদলে দিয়েছ।"
এর আগে ২৩ আগস্ট 'পিপল' ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাশলি দুর্ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, আঘাতটি ছিল অনেকটা বড় বিস্ফোরণের মতো। তিনি নিজের গোড়ালি ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং প্রচণ্ড ব্যথার কারণে শ্বাস নিতে পারছিলেন না। তার মেয়ে প্রথম সাহায্যকারী হিসেবে তার পাশে ছিল। অ্যাশলি জানান, তাকে সুস্থ হয়ে উঠতে প্রায় ১২ মাস সময় লাগতে পারে এবং এই প্রক্রিয়ায় শারীরিক থেরাপিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, "আমি অবাক হয়ে দেখছি যে এই পুরো ঘটনায় ঈশ্বরের হাত কতটা স্পষ্ট ছিল। তিনি সঠিক সময়ে সঠিক মানুষদের আমার পাশে রেখেছেন যাতে আমি সুস্থ হতে পারি।" সব প্রতিকূলতার মাঝেও অ্যাশলি দৃঢ়ভাবে বলেন, "কাউকে বিপদে দেখলে আমি আবারও সাহায্য করতে দ্বিধা করব না।"

