জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মনোনয়ন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বিতর্ক হয়েছে। গত ১৩ জুলাই সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করে জাতীয় সংসদ। বিরোধী দলকে ওই কমিটিতে পাঁচজনের নাম দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে বিরোধী দল কারও নাম দেয়নি। তারা এ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে গঠন পর্ব থেকে ওয়াকআউট করে। রোববার মাগরিবের নামাজের বিরতির পর সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রাক্কালে এই বাহাস শুরু হয়। এতে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম এবং বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
বিতর্কের এক পর্যায়ে সরকারি দল থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল তাদের সদস্যদের নাম না দিলে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ তাদের দেওয়া হবে না। চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম দাবি করেন, বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তারা সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে সম্মত ছিল। তবে বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই দাবি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংসদ চলবে। এর ভেতর একটা সমঝোতা হলে সুন্দর হবে। বৈষম্য বিরোধী একটা পার্লামেন্টের একটা নজির স্থাপিত হবে।
বিরোধী দলীয় উপনেতা তাহের বলেন, সংসদীয় কমিটিতে সদস্য বণ্টন নিয়ে ঐকমত্য থাকলেও সভাপতি পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দল ২৬ শতাংশ কমিটির সভাপতি পাওয়ার অধিকার রাখে, কিন্তু এখন পর্যন্ত শুধু একটি কমিটির সভাপতি পদ তাদের দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগদানের শর্ত দিয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ আটকে রাখা বৈষম্যমূলক এবং তারা এই শর্ত মেনে নিতে রাজি নন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা না করে সব দাবি মানার জন্য চাপ দিচ্ছে, যা একতরফা আচরণ। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিরোধী দল কমিটিতে এলে তাদের মতামত লিপিবদ্ধ করা হবে এবং পরবর্তীতে সব অংশীজনের আলোচনার মাধ্যমে সমৃদ্ধ সংবিধান সংশোধনী বিল আনা হবে। জবাবে চিফ হুইপ বলেন, স্বাধীনতার ৫৪/৫৫ বছরে বিগত দিনে কখনো বিরোধী দল থেকে কোনো কমিটির সভাপতি করা হয়নি। জিয়াউর রহমান পাবলিক কমিটির সভাপতি করেছিলেন। ইতোমধ্যে এটা বিরোধী দলকে দেওয়া হয়েছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল উভয় পক্ষকে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি সংসদীয় অচলাবস্থা নিরসনে উভয় দলের শীর্ষ নেতাদের ‘ক্লোজ ডোর’ বা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসার পরামর্শ দেন। বিতর্কের কারণে রোববার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি গঠনের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়।

