এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও উৎসাহ প্রদানের উদ্দেশ্যে ‘এ+ সংবর্ধনা ২০২৬’ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখা। রোববার সকাল ১০টায় রাজধানীর সবুজবাগে অবস্থিত বাসাবো বৌদ্ধ মন্দির অডিটোরিয়ামে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে দেশের চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেন। সাদ্দাম বলেন, জনগণের গণভোটের রায়কে সম্মান জানিয়ে জুলাই সনদকে কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই—দাঁড়ি, কমা ও সেমিকোলনসহ—পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে।
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে গুমসংক্রান্ত নীতিমালা বাতিল করার মাধ্যমে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি করা গুমসংক্রান্ত নীতিমালাকে অবিলম্বে আইনে রূপান্তর করার দাবি জানান। একই সঙ্গে গুম ও খুনের সাথে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি তোলেন তিনি।
নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, শুধু পড়াশোনায় ভালো বা মেধাবী হলেই চলবে না, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারকে দেশের কল্যাণে নিয়োজিত করতে হবে। ব্যক্তিজীবনে সততা বজায় রাখা এবং দেশপ্রেমকে বুকে ধারণ করে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষ ও মানসম্পন্ন মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ভিপি ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাদিক কায়েম। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ।
ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ইমদাদুল হক মিয়াজির সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা মেধা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে নিজেদের গড়ে তুলে সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। এ সময় ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, কৃতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

