ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের বিপর্যয় বাংলাদেশের

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পোশাকের বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) ইইউ’র বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি প্রায় ১৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা ও দাম হ্রাসের যে গড় হার, বাংলাদেশের রপ্তানি পতনের হার তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। ইউরোস্ট্যাটের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইইউ’র বাজারে সরবরাহকারী বড় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যেখানে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ (ভলিউম) এবং দর (প্রাইস) উভয়ই কমেছে।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে বিশ্ববাজার থেকে ইইউ’র সার্বিক পোশাক আমদানি ৯.৯৬ শতাংশ কমেছে, যা ৩৭.৫৮ বিলিয়ন ইউরো থেকে নেমে ৩৩.৮৪ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। এই মন্দার মূল কারণ হলো ইউরোপে পোশাকের সামগ্রিক চাহিদা ৬.৪৬ শতাংশ কমে যাওয়া এবং পণ্যের গড় দাম ৩.৭৪ শতাংশ হ্রাস পাওয়া। তবে বৈশ্বিক এই মন্দার ধাক্কা বাংলাদেশের ওপর পড়েছে সবচেয়ে তীব্রভাবে। এই সময়ে ইইউ’র বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৮.৮৯ শতাংশ কমে ৭.২৮ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে রপ্তানির ভলিউম কমেছে ১০.৪৬ শতাংশ এবং গড় দাম কমেছে ৯.৪১ শতাংশ। এমনকি মে মাসেও এই নেতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত ছিল, যেখানে দাম ১৭.১২ শতাংশ এবং ভলিউম ১৩.৫৫ শতাংশ কমেছে।

রপ্তানিকারকদের মতে, ইউরোপের বাজারে এতদিন বাংলাদেশের মূল শক্তি ছিল সস্তা দরে পণ্য সরবরাহ করা। কিন্তু বর্তমানে পাকিস্তান ও চীনের আগ্রাসী মূল্যছাড়ের কারণে সেই সুবিধা হারাচ্ছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছে দরকষাকষির সক্ষমতাও কমেছে। প্রতিযোগী দেশগুলো ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। চীন দাম ৬.০৫ শতাংশ কমিয়ে ভলিউম ১.৯৬ শতাংশ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। ভিয়েতনাম প্রিমিয়াম পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে ভলিউম ১২.২৭ শতাংশ কমালেও গড় দাম ১২.২৬ শতাংশ বাড়াতে পেরেছে। পাকিস্তান ভলিউম ৩ শতাংশ বাড়ালেও পণ্যের দাম ১৯.৪৩ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানিও কমেছে যথাক্রমে ১৩.৩৩ শতাংশ ও ২৩.৭৬ শতাংশ।

বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, উৎপাদন খরচ বাড়লেও ক্রেতারা সেই অনুযায়ী দাম দিচ্ছেন না, উল্টো প্রতিযোগী দেশগুলো কম দামে অর্ডার নিয়ে যাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দ্রুত পণ্য বহুমুখীকরণ এবং উচ্চমূল্যের পোশাকের দিকে না গেলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা আরও সংকুচিত হবে।

তুরস্ক ও কম্বোডিয়া: এই দুই দেশের পোশাক সরবরাহের পরিমাণ কমলেও (যথাক্রমে -১৭.১৭% ও -১৫.১৩%) পোশাকের গড় দাম বেড়েছে।