ফিফার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার (UEFA) আইনি পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্লেষকদের মতে, এই আইনি লড়াইয়ের ফলে ইনফান্তিনোর ক্ষমতার ভিত নড়বড়ে হয়ে উঠছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে পাওয়া রাজনৈতিক সমর্থনও ক্রমে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
এই সংকটের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ফ্লোরিডায় এক আইনি প্রক্রিয়ায় জোশ কুশনারের নাম জড়িয়ে যাওয়া। কুশনার ছিলেন ফিফার বিতর্কিত 'ফিফা ফরোয়ার্ড' প্রকল্পের অর্থায়নের পেছনে থাকা মূল ব্যক্তি। ঘটনাচক্রে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জোশ কুশনার জানিয়েছেন, ফিফার এই পরিকল্পনার পুরো চিত্রটি যদি তাঁর জানা থাকত, তবে তিনি এতে জড়াতেন না। এই পুরো বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করে তিনি ইনফান্তিনো ও ফিফা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আইনি লড়াই মোকাবিলায় জোশ কুশনার যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ আইনজীবী অ্যালেক্স স্পিরোকে নিয়োগ দিয়েছেন। স্পিরো এর আগে ইলন মাস্ক এবং অ্যালেক বল্ডউইনের মতো হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের আইনি লড়াই লড়েছেন। অন্যদিকে, ফিফা এই পুরো বিষয়টিকে একটি 'অপপ্রচার' বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং আদালতে তথ্য প্রকাশের (ডিসকভারি) প্রক্রিয়া প্রতিহত করার জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর মধ্যকার একসময়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এখন ফিকে হয়ে আসছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত আগস্টের শুরুতে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ইনফান্তিনোর পক্ষে একটি বার্তা দিয়েছিলেন, তবে সেটি ছিল বেশ শর্তযুক্ত। ট্রাম্প লিখেছিলেন, "যদি কোনো কারণে" ফিফা ইনফান্তিনোকে সরিয়ে দেয়, তবে তা খুব খারাপ হবে। এরপর থেকে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আর কোনো জোরালো সমর্থন দেখা যায়নি। ট্রাম্পের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনুগতদের ছুড়ে ফেলার দীর্ঘ রেকর্ড রয়েছে, যার উদাহরণ মাইকেল কোহেন এবং সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইনফান্তিনো বিভিন্ন দেশ সফর করে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। তবে সৌদি আরবও তাঁকে কেবল সাময়িক ও শর্তসাপেক্ষ সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছে। আগামী নভেম্বরে ফিফা কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফুটবল বিশ্বে যেভাবে আকস্মিকভাবে সেপ ব্ল্যাটার এবং মিশেল প্লাতিনির যুগের অবসান ঘটেছিল, ইনফান্তিনোর ক্ষেত্রেও উয়েফার এই আইনি চাল তেমনই কোনো পরিণতির সূচনা কি না, তা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

