গত ২৭ আগস্ট কানেকটিকাটের হার্টফোর্ডে একটি হকি টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ১৮ বছর বয়সী অ্যাডিসিন বেয়ার্ড। ঠিক সেই মুহূর্তে উইমেনস প্রো বেসবল লিগের (WPBL) কমিশনার জাস্টিন সিগেলের একটি ফোন কল তার জীবন বদলে দেয়। লস অ্যাঞ্জেলেস কুইন্স দলের একজন আউটফিল্ডার কুরাসাওয়ের জাতীয় দলে যোগ দেয়ায় দলটির একজন বদলি খেলোয়াড় প্রয়োজন ছিল। সিগেল তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেন, কত দ্রুত তিনি সেখানে পৌঁছাতে পারবেন।
পরের দিনই একটি হকি ম্যাচ শেষ করে অ্যাডিসিন এবং তার বাবা গাড়ি নিয়ে ২০ ঘণ্টারও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে ইলিনয়ের স্প্রিংফিল্ডে পৌঁছান, যেখানে ডব্লিউপিবিএল-এর সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ৩ সেপ্টেম্বর কুইন্সের হয়ে পেশাদার বেসবলে অভিষেক হয় তার। এই দলের বর্তমান রোস্টারে লিটল লিগ ওয়ার্ল্ড সিরিজের তারকা মো’নে ডেভিসও রয়েছেন। বর্তমানে ডব্লিউপিবিএল-এর উদ্বোধনী মৌসুমে খেলা একমাত্র হাইস্কুল শিক্ষার্থী অ্যাডিসিন। মৌসুম শেষে তিনি পেনসিলভানিয়ার দ্য হিল স্কুলে তার শেষ বর্ষের পড়াশোনা শুরু করবেন এবং কলেজে সফটবল বা হকি খেলার পাশাপাশি চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়াশোনার পরিকল্পনা করছেন।
পেশাদার মঞ্চে নিজের অভিষেক নিয়ে অ্যাডিসিন বলেন, এটি তার কাছে অবিশ্বাস্য এক অভিজ্ঞতা। ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পাশাপাশি তিনি নিজেকে রোল মডেল হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, অনেকে মনে করতেন বেসবলে মেয়েদের কোনো জায়গা নেই, কিন্তু এই লিগ প্রমাণ করেছে যে তাদের জায়গা সবসময়ই ছিল। মাঠের বাইরেও তিনি তার বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন। তিনি মিডল ইনফিল্ডে খেলেন এবং পিচিং করেন। তার পিচিং অস্ত্রাগারে ফাস্টবল, কার্ভবল এবং চেঞ্জআপ রয়েছে। অভিষেক ম্যাচে তিনি লেফট ফিল্ডে নেমে তিনবারে একবার ব্যাট ছুঁয়েছেন, একটি সিঙ্গেল রান ও একটি ওয়াক পেয়েছেন এবং একটি রান স্কোর করেছেন।
তার বাবা ট্রাভিস বেয়ার্ড জানান, ছোটবেলা থেকেই অ্যাডিসিনকে অনেক চাপের মুখে খেলতে হয়েছে। ইন্ডিয়ানার গ্রেঞ্জারে ছেলেদের সাথে খেলে বড় হওয়া অ্যাডিসিন সবসময়ই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন—কেন তিনি সফটবল না খেলে বেসবল খেলছেন। তবে সেই প্রতিকূলতা তাকে আরও শক্তিশালী করেছে। ডব্লিউপিবিএল-এর প্রতিটি দলের বেতন সীমা ৯৫,০০০ ডলার এবং প্রতি ম্যাচে খেলোয়াড়রা ৩০০ থেকে ৫০০ ডলার পান। লিগ থেকে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হলেও অনেক সময় তাকে ব্যক্তিগত খরচও বহন করতে হয়।
ভবিষ্যতে লিগটি টিকে থাকবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও, অ্যাডিসিন এতে খেলার সুযোগ পেয়ে আনন্দিত। তিনি প্রতি ম্যাচেই তার কব্জিতে একটি রঙিন আর্মব্যান্ড পরেন, যা তিনি তার পরিবারের সদস্যদের সম্মানে উৎসর্গ করেন। ট্রাভিস বেয়ার্ড বলেন, এখন যখন মানুষ জিজ্ঞেস করে অ্যাডিসিন কোন খেলা খেলে, তিনি গর্বের সাথে বলতে পারেন—সে একজন পেশাদার বেসবল খেলোয়াড়।

