বয়স্ক বাবা-মায়ের সেবা করা অনেক সময় অত্যন্ত মানসিক চাপের কাজ, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দায়িত্ব পালনের পর যে পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে তা আরও ভয়াবহ। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর বিশেষ করে যেসব ভাই-বোন বা আত্মীয়রা সেবার কাজে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না, তারা প্রায়ই সেবাদানকারী সন্তানের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ বা ভুল স্বাস্থ্যগত সিদ্ধান্তের অভিযোগ তোলেন। অনেক ক্ষেত্রে এই তিক্ততা আইনি লড়াই বা মামলা পর্যন্ত গড়ায়।
আমেরিকান বার অ্যাসোসিয়েশনের মতে, আগামী দশকে বেবি বুমার প্রজন্মের মৃত্যুর হার বাড়ার সাথে সাথে উত্তরাধিকার নিয়ে আদালতের ওপর মামলার চাপ বা 'প্রোবেট স্টর্ম' তৈরি হবে। এর ফলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অনেক সন্তানকে শোকের সময়েই মোটা অংকের আইনি ফি গুনতে হতে পারে, বিশেষ করে যখন সেবা প্রদানের কারণে তাদের আর্থিক অবস্থা এমনিতেই সংকটাপন্ন।
ডিমেনশিয়া সাপোর্ট গ্রুপের ফ্যাসিলিটেটর এবং লেখক ক্যারল ব্র্যাডলি বারস্যাক বলেন, কিছু ক্ষেত্রে সন্দেহ যৌক্তিক হলেও অনেক সময় যারা সেবার কাজে আগ্রহী ছিলেন না, তারা উত্তরাধিকার হারানো মেনে নিতে পারেন না। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তারা অনেক সময় মামলার পথ বেছে নেন। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দশকে ১২৪ ট্রিলিয়ন ডলারের 'গ্রেট ওয়েলথ ট্রান্সফার' ঘটবে, কিন্তু পারিবারিক বিরোধের কারণে এই সম্পদের বড় অংশ আইনি লড়াইয়ের পেছনে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মামলা মোকাবিলা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। যদি সেবাদানকারী সন্তান এস্টেটের এক্সিকিউটর বা ট্রাস্টি না হন, তবে তাকে নিজের খরচেই আইনি সুরক্ষা নিতে হয়। ভেনেবল এলএলপি-র পার্টনার ল্যারি ম্যান্ডেলকার বলেন, আইনি ব্যবস্থার জটিলতার কারণে যেকোনো ব্যক্তি যে কারো বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে, যার ফলে নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও লড়াই করতে গিয়ে অর্থ ব্যয় করতে হয়।
এই ধরনের পারিবারিক বিশ্বাসঘাতকতা এবং আর্থিক চাপের কারণে সেবাদানকারীরা চরম মানসিক ট্রমার শিকার হন। বারস্যাক একটি হৃদয়বিদারক ঘটনার উল্লেখ করে জানান, বছরের পর বছর মায়ের সেবা করার পর এমন পরিস্থিতির শিকার হয়ে এক সেবাদানকারী আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের হ্যারিস পোল অনুযায়ী, জরিপে অংশ নেওয়া ৩৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন যে তারা পরিবারের নিকটাত্মীয় বা ভাই-বোনের সাথে সম্পর্কহীন।
আইনজীবীদের মতে, প্রাথমিক সেবাদানকারী হওয়ার আগেই আইনি পরামর্শ নেওয়া উচিত। সিমাস্কো ল-এর আইনজীবী প্যাট্রিক সিমাস্কো পরামর্শ দেন যে, বাবা-মায়ের সেবা শুরু করার আগেই পাওয়ার অব অ্যাটর্নি এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরি রাখা উচিত। তবে অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে হুট করে সেবার দায়িত্ব নিতে হয় বলে বিস্তারিত হিসাব বা রশিদ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বারস্যাক আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে ইন-হোম কেয়ার মেডিকেয়ারের আওতায় আসবে, যা সেবাদানকারীদের জন্য বড় ধরনের সুরক্ষা হিসেবে কাজ করবে।
