ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি দলের নিয়মিত উইকেটরক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার দৌড়ে এগিয়ে গেছেন অ্যালিস ক্যাপসি। কোচ শার্লট এডওয়ার্ডস মনে করেন, ২২ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার কিপিং গ্লাভস হাতে দারুণ পারফর্ম করে দলের প্রথম পছন্দের উইকেটরক্ষক হওয়ার দাবি জোরালো করেছেন।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে অ্যামি জোন্সের অনুপস্থিতিতে কিপিংয়ের দায়িত্ব পালন করেন ক্যাপসি। রবিবার ওরচেস্টারে সিরিজের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের ১১৪ রানের জয়ের পর এডওয়ার্ডস বলেন, এই সিরিজে ক্যাপসির কিপিংয়ের মান দেখে তিনি অত্যন্ত খুশি। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ক্যাপসিকে নিয়মিত উইকেটরক্ষক হিসেবে দেখার সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ৪১ রান করার পাশাপাশি একটি ক্যাচও নিয়েছিলেন ক্যাপসি। শেষ ম্যাচে তিনি দুটি স্টাম্পিং করেন, যার একটি ছিল রিয়ানা ম্যাকডোনাল্ড-গের বাউন্সারে রেবেকা স্টোকেলকে ফেরানোর মুহূর্ত। ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রেও ক্যাপসি এবং অভিজ্ঞ অ্যামি জোন্সের পরিসংখ্যান কাছাকাছি। টি-টোয়েন্টিতে ক্যাপসির গড় ২১.০৩ এবং স্ট্রাইক রেট ১২১.৮৭, যেখানে জোন্সের গড় ২০.২ এবং স্ট্রাইক রেট ১২১.৯৮।
ম্যাচে অধিনায়কত্ব করা চার্লি ডিনও ক্যাপসির পারফরম্যান্সে মুগ্ধ। তিনি জানান, কিপিংয়ে ক্যাপসিকে দেখে মনে হয়নি এটি তার নিয়মিত দায়িত্ব নয়। দলের মধ্যে প্রতিযোগিতার যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন কোচ এডওয়ার্ডস।
এদিকে, ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে হারের পর লাল বলের ক্রিকেটে প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এডওয়ার্ডস। আগামী বছর অ্যাশেজ সিরিজের কথা মাথায় রেখে তিনি খেলোয়াড়দের কাউন্টি ক্রিকেটের বাইরে এনে বিশেষ লাল বলের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলানোর পরিকল্পনা করছেন। তিনি মনে করেন, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়টা রেড-বল ক্রিকেটের উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সামগ্রিকভাবে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমটি ইংল্যান্ড দলের জন্য বেশ ভালো কেটেছে বলে মনে করেন কোচ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রানার্সআপ হওয়া, সোফিয়া ডাঙ্কলির দুর্দান্ত ফর্ম—বিশেষ করে শেষ ম্যাচে ক্যারিয়ার সেরা ১১৯ রানের ইনিংস—এবং ফ্রেয়া কেম্প ও দানি গিবসনের ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা দলের জন্য ইতিবাচক দিক। আগামী বছর ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াইয়ের জন্য তিনি দলের বিকল্প বাড়াতে বদ্ধপরিকর।

