বোলোনিয়ার বিপক্ষে নাপোলির ১-০ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে কেভিন ডি ব্রুইনের মাঠ ছাড়ার ঘটনা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ দূর করেছেন কোচ মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, বেলজিয়ান এই মিডফিল্ডারের চোট গুরুতর কিছু নয়, মূলত অতিরিক্ত শক্তি খরচের কারণে পেশির টানের (ক্র্যাম্প) কারণেই তাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল।
স্তানিস্লাভ লোবোতকার একমাত্র গোলে বোলোনিয়াকে হারিয়ে চলতি মৌসুমে নিজেদের মাঠে প্রথম জয়ের দেখা পেল নাপোলি। ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্ট ইতালিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অ্যালেগ্রি খেলোয়াড়দের বদল করার বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তুত্তোমারকাতোওয়েব-এর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, "সে প্রচুর শক্তি ব্যয় করেছে, এটি কেবলই পেশির টান ছিল। আজকের ম্যাচটি আমরা জেতার তীব্র জেদ নিয়ে খেলেছি, যা কোমো এবং ইন্টারের বিপক্ষে ম্যাচে আমাদের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল। ওই ম্যাচগুলোতে আমরা কিছুটা খামখেয়ালি ছিলাম, যদিও কিছু ভালো কাজও করেছিলাম।"
দিয়েগো আরমান্দো মারাদোনা স্টেডিয়ামে ডি ব্রুইনেকে স্ট্রাইকারের কাছাকাছি পজিশনে খেলানো হয়েছিল। ৩৫ বছর বয়সী এই তারকাকে নিয়ে অ্যালেগ্রি বলেন, "আমার মনে হয় কেভিন তার পুরো জীবন জুড়েই এই পজিশনে খেলেছে। সে নিজের জন্য জায়গা তৈরি করতে এবং কখন নিচে নেমে আসতে হবে তা বুঝতে দারুণ পারদর্শী, তাই এ নিয়ে বিতর্ক করা অসম্ভব। বল নিয়ন্ত্রণ এবং পাস দেওয়ার ধরনেই বোঝা যায় সে অন্যদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তবে তার বয়সের বিষয়টি বিবেচনা করে তাকে দেখেশুনে ব্যবহার করতে হবে।"
ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা ফাভাসুলি, নোয়া ল্যাং এবং লরেঞ্জো লুকার পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বলেন নাপোলি বস। দ্বিতীয়ার্ধে ফাভাসুলি ও নোয়া ল্যাং মাঠে নেমে বড় প্রভাব ফেলেন। ফাভাসুলির প্রশংসা করে অ্যালেগ্রি বলেন, "সে খুব ভালো খেলেছে, আর্সেনালের বিপক্ষেও সে চমৎকার অবদান রেখেছিল। পলিটানো প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটে কঠোর পরিশ্রম করার পর আমাদের নতুন শক্তির প্রয়োজন ছিল। ভেরগারার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এই গরমের মধ্যে মৌসুমের শুরুতে প্রথমার্ধের পরেই পরিবর্তন আনাটা বেশ কার্যকর হতে পারে।"
শেষ দিকে মাঠে নামানো হয়েছিল লরেঞ্জো লুকাকে। তাকে মাঠে নামানোর সময় কী নির্দেশনা দিয়েছিলেন, তা প্রকাশ করে অ্যালেগ্রি বলেন, "সে যখন মাঠে নামছিল, আমি তাকে শুধু বলেছিলাম: তোমার কাঁধ চওড়া করো। সে খুব ভালো খেলেছে, যেমনটা আর্সেনালের বিপক্ষেও করেছিল। এরা সবাই ভালো ছেলে এবং তাদের আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। মানসিকভাবে তাদের আত্মবিশ্বাস প্রয়োজন।"
তবে দলের সব কিছু নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি অ্যালেগ্রি। মাঠের ভুল জায়গায় বল পাস দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "ম্যাচের শেষ দিকে আমরা পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে সামাল দিতে পারতাম। আমরা নিজেদের অর্ধেই বল ধরে রাখছিলাম, অথচ আমাদের উচিত ছিল প্রতিপক্ষের বক্সে বল নিয়ে খেলা। অবশ্য আমরা সুযোগ খুব কমই দিয়েছি। তাই ঘরের মাঠে প্রথম এই জয়টি আমাদের উপভোগ করতে দিন। আশা করি এটি একটি ভালো শুরু।"

