মদ্যপানের অভ্যাস থেকে সরে আসছেন আমেরিকানরা। গ্যালাপের ২০ আগস্ট প্রকাশিত নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে মদ্যপানের হার রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো দেশটিতে মদ্যপায়ীর সংখ্যা ৫৪ শতাংশে স্থির রয়েছে।
এই নিম্নমুখী প্রবণতার পেছনে স্বাস্থ্যগত উদ্বেগকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ৫১ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক এখন মনে করেন যে প্রতিদিন এক বা দুই গ্লাস অ্যালকোহল গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। গত বছর এই হার ছিল ৫৩ শতাংশ, যা ছিল সে সময়ের রেকর্ড। তবে ২০০১ সালে মাত্র ২৭ শতাংশ মানুষ মদ্যপানকে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করতেন।
মদ্যপানের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা মদ্যপানের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণার বিষয়ে কিছু না কিছু শুনেছেন, যা ২০২৪ সালের ৭৯ শতাংশের তুলনায় বেশি। মদ্যপান যে ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়, তা এখন অনেকেরই জানা। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির জার্নাল 'ক্যানসার'-এ প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, যারা সপ্তাহে গড়ে ১৪ বা তার বেশি পানীয় গ্রহণ করেন, তাদের কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি ২৫ শতাংশ এবং মলাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি ৯৫ শতাংশ বেশি থাকে।
অতিরিক্ত মদ্যপানের প্রবণতাও বর্তমানে ১৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা একটি নতুন রেকর্ড। ২০০০ সালের আগে এই হার নিয়মিতভাবে ২০ শতাংশের উপরে ছিল এবং ১৯৮৯ সালে তা সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছিল। প্রথমবারের মতো গ্যালাপের জরিপে অ্যালকোহলের বিকল্প নিয়ে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। এতে দেখা গেছে, ১৭ শতাংশ মানুষ গত এক বছরে মদ্যপানের পরিবর্তে নন-অ্যালকোহলিক বিয়ার, ওয়াইন বা স্পিরিট গ্রহণ করেছেন।
জুলাই মাসে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ১০০০ জনেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্কের ওপর এই জরিপ চালানো হয়েছে। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের অ্যাডিকশন সাইকিয়াট্রিস্ট ড. জ্যারেড হার্পের মতে, মদ্যপানের এই নিম্নমুখী প্রবণতা সাময়িক নয়, বরং এটি ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
