বোস্টনের ফার্স্ট ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস ২৫ জুলাই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের একটি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। এর ফলে ২৩টি অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে ভোট বা মেইল-ইন ভোটিং সংক্রান্ত নিয়ম কঠোর করার যে নির্বাহী আদেশ ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তা আপাতত কার্যকর করা যাচ্ছে না। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই রায় বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে গত ২৫ জুন ডেমোক্র্যাটিক নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যগুলোর দায়ের করা একটি মামলায় নিম্ন আদালতের বিচারক এই আদেশের মূল অংশগুলোকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানির এই রায় স্থগিত করার জন্য বিচার বিভাগে আবেদন করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের যুক্তি ছিল, সরকারি সংস্থাগুলো যেহেতু এখনো এই নির্দেশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেনি, তাই এ সংক্রান্ত মামলাটি অকালপক্ক।
তবে আপিল আদালত ২-১ ব্যবধানে প্রশাসনের এই যুক্তি নাকচ করে দিয়েছে। বিচারকদের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাহী আদেশে বেশ কিছু সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে যা দ্রুত এগিয়ে আসছে। অঙ্গরাজ্যগুলোকে এই নতুন ভোটিং পদ্ধতি মেনে চলার জন্য ফেডারেল কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে, আবার একই সঙ্গে সেপ্টেম্বর ও নভেম্বরের নির্বাচনের জন্য ভোটারদের নিয়মগুলো সম্পর্কেও সচেতন করতে হবে। আদালত জানায়, সংক্ষুব্ধ অঙ্গরাজ্যগুলোর সামনে এখনই এই আদেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া কোনো বাস্তবসম্মত বিকল্প নেই।
ট্রাম্প গত মার্চ মাসে এই নির্বাহী আদেশটি স্বাক্ষর করেছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ডাকযোগে ভোটের নিয়ম কঠোর করার দাবি জানিয়ে আসছেন এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির ভিত্তিহীন দাবি করে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, ফেডারেল নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর ন্যস্ত।
ট্রাম্পের এই আদেশের লক্ষ্য ছিল ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে (DHS) প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের জন্য যোগ্য ভোটারদের তালিকা তৈরি ও পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া। এছাড়া ইউএস পোস্টাল সার্ভিসকে (USPS) শুধুমাত্র অঙ্গরাজ্যের অনুমোদিত তালিকার ভোটারদের কাছেই ব্যালট পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি অযোগ্য ব্যক্তিদের ব্যালট প্রদানকারী কর্মকর্তাদের তদন্ত ও বিচারের অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য বিচার বিভাগকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানি তার রায়ে বলেন, অঙ্গরাজ্যগুলোর জন্য ভোটার তালিকা তৈরির কোনো কর্তৃত্ব প্রেসিডেন্টের নেই। এছাড়া ডাকযোগে ভোটের বিষয়ে কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম প্রণয়নের আইনি অধিকার ইউএস পোস্টাল সার্ভিসের নেই। বারাক ওবামার নিয়োগপ্রাপ্ত এই বিচারক আরও উল্লেখ করেন, অসম্পূর্ণ নাগরিকত্বের তালিকা ব্যবহার করে স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করাটাও আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।
