আগস্ট ২১, ২০২৬ / ২:৪২ পিএম ইডিটি / সিবিএস নিউজ। যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত শুক্রবার এক রায়ে জানিয়েছে, নিউ ইয়র্কের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের শীর্ষ ফেডারেল আইনজীবী জন সারকোন তার পদে অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত বছর নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের বিরুদ্ধে দুটি তদন্তের অংশ হিসেবে তিনি সমন জারি করেছিলেন, যা এখন আইনগত প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
দ্বিতীয় সার্কিটের ইউএস কোর্ট অব আপিলস ২-১ ভোটে এই রায় দেয়। আদালতের মতে, ২০২৫ সালে জন সারকোনকে যে প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তা ফেডারেল ভ্যাকেন্সিস রিফর্ম অ্যাক্ট (এফভিআরএ)-এর পরিপন্থী। বিচারক গুইডো ক্যালাব্রেসি তার রায়ে উল্লেখ করেন, আইন অনুযায়ী কেবল দায়িত্ব খালি হওয়ার সময় যিনি ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োজিত থাকেন, তিনিই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হতে পারেন, যা সারকোনের ক্ষেত্রে ঘটেনি।
জন সারকোন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রাক্তন নির্বাচনী আইনজীবী ছিলেন। গত বছর তাকে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের অন্তর্বর্তীকালীন মার্কিন আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১২০ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর স্থানীয় বিচারকরা তাকে আর রাখতে রাজি হননি। পরবর্তীতে তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি তাকে ‘স্পেশাল অ্যাটর্নি’ এবং অফিসের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেন, যাতে তাকে ২১০ দিনের জন্য ভারপ্রাপ্ত মার্কিন আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া যায়। তবে আদালত জানিয়েছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিল আইন ফাঁকি দেওয়ার একটি কৌশল।
এর আগে চলতি মাসে নবম (৯) ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস-এর একটি প্যানেল রায় দেয় যে, নেভাদায় ট্রাম্পের মনোনীত মার্কিন আইনজীবী সিগাল চাটাহ ১২০ দিনের সীমা পার হওয়ার পরও দায়িত্ব পালন করায় তার নিয়োগ অবৈধ ছিল। মেয়াদের শেষ দিনের আগের দিন চাটাহ পদত্যাগ করেন।
বিচারক ক্যালাব্রেসি বলেন, এই ধরনের ব্যাখ্যা আইন অমান্যকারীদের পুরস্কৃত করে এবং যারা আইন মেনে চলে তাদের নিরুৎসাহিত করে। তিনি আরও বলেন, এই প্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে যেকোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়ে আইনত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বানিয়ে ফেলতে পারেন, যা কংগ্রেসের নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ডকে নস্যাৎ করে।
লেটিশিয়া জেমস ২০২৫ সালের আগস্টে সমন পাওয়ার পর আদালতের শরণাপন্ন হন। তিনি দাবি করেন, যে ব্যক্তি আইনত ওই পদে নেই, তার জারি করা সমন অবৈধ। এর আগে জানুয়ারিতে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের এক ফেডারেল বিচারকও একই অভিমত দিয়েছিলেন যে, সারকোন আইনত ওই পদে নেই এবং তার নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাতিলযোগ্য।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে সারা দেশে সিনেট অনুমোদন ছাড়াই নিজেদের পছন্দের আইনজীবীদের বসানোর যে চেষ্টা চলছে, এই রায় সেটির ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে নিউ জার্সি, নেভাদা, ক্যালিফোর্নিয়া এবং ভার্জিনিয়াতেও একই ধরনের নিয়োগ নিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে প্রশাসনকে।

