লন্ডনের ওটু অ্যারেনায় দীর্ঘ আট মিনিটের কাউন্টডাউন শেষে যখন আরিয়ানা গ্রান্দের অস্পষ্ট ছায়া প্রতিকৃতি বিশাল পর্দায় ভেসে ওঠে, তখন থেকেই শুরু হয় এক রহস্যময় আবহ। এটি কি সত্যিই তিনি, নাকি কোনো বিভ্রম? ইটারনাল সানশাইন ট্যুরের এই স্টপে এটিই প্রথমবার নয় যে দর্শক বাস্তব এবং ধারণার মধ্যে পার্থক্য খুঁজতে বাধ্য হয়। ১০ রাতের এই রেসিডেন্সি শো মূলত দর্শকের সামনে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরার চেষ্টা করে।
দীর্ঘদিন ধরে জনসমক্ষে নিজের শরীর নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে আরিয়ানা গ্রান্দে এই ট্যুর শেষে লোকচক্ষুর আড়াল হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৩৩ বছর বয়সী এই পপ তারকার মঞ্চে উপস্থিতি অনেকের মনেই উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তার ২০২০ সালের অ্যালবাম পজিশনস-এর শিরোনামের গানটি গাওয়ার সময় যখন মঞ্চ ডিজিটাল শিখায় ঢেকে যায়, তখন তার ভঙ্গুর শারীরিক গঠন দেখে অনেকের মনেই শঙ্কা জাগে।
তবে সেই উদ্বেগ সরিয়ে রেখে দর্শকরা তার শো উপভোগ করতে বাধ্য হন, যা ছিল জাঁকজমকপূর্ণ এবং আন্তরিক। কোনো বিশেষ আতশবাজি ছাড়াই আরিয়ানার কণ্ঠস্বর ওটু অ্যারেনার ছাদ কাঁপিয়ে তোলে। তার পুরনো হিট গান যেমন ব্রেক ফ্রি এবং ওয়ান লাস্ট টাইম ছিল কনসার্টের অন্যতম আকর্ষণ। ডেনজারাস ওম্যান গানটিতে ড্রামের শব্দ যেন বাজি ফাটানোর মতো কাজ করে, যেখানে আরিয়ানা মাইক্রোফোন স্ট্যান্ড টেনে নিয়ে সরাসরি ভক্তদের কাছে গান পরিবেশন করেন।
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া তার অষ্টম অ্যালবাম পেটালের গানগুলো কনসার্টের শেষভাগে পরিবেশিত হয়। ব্যাড থিং গানের লাইভ ডেবিউয়ের সময় আরিয়ানা তার ভিক্টোরিয়ান নাইট গাউন পরে পোগো ড্যান্স করেন এবং এই সময় তিনি বলেন, এটি একটি অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি। তার পারফরম্যান্সের সময় ড্যান্সারদের সহযোগিতা এবং অসম্ভব উঁচু হিল পরে তার অনবরত হাঁটাচলা তার পেশাদারিত্বের পরিচয় দেয়। সেফটি নেট গানের ক্লাইম্যাক্সে তার কণ্ঠের কারুকাজ ছিল দেখার মতো।
থ্যাঙ্ক ইউ, নেক্সট গানটি গাওয়ার সময় তার মুখে এক ধরনের হালকা হাসি খেলা করছিল, যা তার অতীতের রোমান্টিক তিক্ততার স্মৃতিকে যেন আরও সহনীয় করে তুলেছিল। তবে মাঝেমধ্যে সেই হালকা মেজাজ ভেঙে পড়ে। পাস্ট লাইফ গানটি গাওয়ার সময় তার শারীরিক ভঙ্গি এবং লাইটিংয়ের কারসাজিতে তার হাড়ের গঠন স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা দর্শকদের মনে এক গভীর অস্বস্তি তৈরি করে।
এই কনসার্টটি আরিয়ানার ১৩ বছরের পপ ক্যারিয়ারের এক উজ্জ্বল স্বাক্ষর হলেও, তাকে এমন অবস্থায় দেখে মনে হয়, তিনি যেন আমাদের চোখের সামনেই ফুরিয়ে যাচ্ছেন। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, এই ট্যুরটি কি বাতিল করা উচিত ছিল? আশা করা যায়, এই সফর কেবল একটি চার-তারকা কনসার্ট হিসেবেই নয়, বরং তার দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য জীবনের একটি অংশ হিসেবেই ইতিহাসে থাকবে।

