গত দুই দশকে অটিজম হিসেবে চিহ্নিত মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এই বিষয়টি এখন একাডেমিক ও সামাজিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশিষ্ট গবেষক ডেম উটা ফ্রিথ, যিনি অটিজম গবেষণার অন্যতম পথিকৃৎ, সম্প্রতি এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, অটিজমের বর্ণালী বা 'স্পেকট্রাম' এখন এতটাই বিস্তৃত হয়ে পড়েছে যে, এটি তার মূল ক্লিনিকাল বা চিকিৎসাগত ভিত্তি হারিয়ে একটি অস্পষ্ট এবং সাংস্কৃতিকভাবে তৈরি পরিচয়ে পরিণত হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে ১৯৯৮ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে অটিজম শনাক্তের হার ৭৮৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এই বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি। একই চিত্র দেখা গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও, যেখানে ২০১১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এই হার ১৭৫ শতাংশ বেড়েছে। ফ্রিথ মনে করেন, অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যারা এখন অটিজমের লেবেল নিচ্ছেন, তারা শৈশব থেকে অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তার মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবে অনেকে নিজেদের সমস্যাগুলোকে অটিজম হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা করছেন।
ফ্রিথ বিশেষভাবে টিভি উপস্থাপক ক্রিস প্যাকহামের অটিজম নির্ণয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যাকে তিনি 'অযৌক্তিক' বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, যারা সামাজিকভাবে সাবলীলভাবে যোগাযোগ করতে পারেন, তাদের অটিস্টিক বলাটা বৈজ্ঞানিক তথ্যের পরিপন্থী। তবে এই মতামতের বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন অটিজম অ্যাক্টিভিস্ট ও ডাক্তাররা। আইরিশ অবেদনবিদ ও অটিজম অ্যাক্টিভিস্ট মেরি ডোহার্টি মনে করেন, অটিজমকে কেবল গুরুতর অক্ষমতার সাথে তুলনা করাটা ভুল এবং এটি অটিস্টিক ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার করার শামিল।
অটিজম বিশেষজ্ঞ সাইমন ব্যারন-কোহেন এই জটিলতা নিরসনে অটিজমকে কয়েকটি উপ-বিভাগে (subgroups) বিভক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, অটিজম শব্দটি এখন একটি 'স্লেজহ্যামার' বা ভারী অস্ত্রের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে, যা খুব বেশি বিষয়কে ধারণ করতে গিয়ে নিজের গুরুত্ব হারাচ্ছে। তার মতে, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতা আছে এমন অটিজম এবং সাধারণ বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা সম্পন্ন অটিজমের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য থাকা প্রয়োজন।
ফ্রান্সেসকা হ্যাপ্পে, যিনি কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক, তিনি অটিজমকে একটি মেডিকেল ডায়াগনোসিস হিসেবে দেখার পক্ষে, তবে তিনি মনে করেন যাদের দৈনন্দিন জীবনে কোনো সাহায্যের প্রয়োজন নেই, তাদের ক্ষেত্রে এটি একটি 'আইডেন্টিটি' বা পরিচয় হিসেবে গণ্য হতে পারে। বর্তমানে এই বিতর্ক চলছে যে, অটিজম কি একটি মেডিকেল ডিসঅর্ডার নাকি কেবল একটি নিউরোডাইভারস পরিচয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিতর্ক এখন একটি পেন্ডুলামের মতো দুলছে এবং ভবিষ্যতে হয়তো অটিজমের সংজ্ঞায় নতুন কোনো বিভাজন বা পরিবর্তনের সময় এসেছে।

