কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন, বাণিজ্য আলোচনার লক্ষ্য অর্জনে উভয় দেশের প্রতিনিধি দল আগামী কয়েক সপ্তাহ নিবিড়ভাবে কাজ করবে। এই ইতিবাচক ঘোষণাটি আগস্ট মাসের পরিস্থিতির তুলনায় একটি বড় পরিবর্তন। সে সময় কানাডা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমন কিছু দাবি প্রত্যাখ্যান করে আলোচনার টেবিল থেকে সরে এসেছিল, যা কানাডার সার্বভৌমত্ব, ফরাসি ভাষার সুরক্ষা এবং অটোমোবাইল শিল্পের জন্য হুমকি বলে মনে করা হয়েছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যার পাল্টা জবাব দিয়েছিল অটোয়া।
গত বুধবার পর্যন্ত কার্নি জানিয়েছিলেন যে, মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবে বর্তমানে দুই পক্ষ ইস্পাত ও অটোমোবাইল পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্কের সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
ট্রাম্পের এই বাণিজ্য যুদ্ধ ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে মিশিগান ও মেইন অঙ্গরাজ্যে। শুল্কের কারণে স্থানীয় ব্যবসায়িক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়া রিপাবলিকান প্রার্থীরা চাপের মুখে রয়েছেন। মিশিগানের রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্স এই শুল্ক যুদ্ধের অবসান চেয়েছেন।
এদিকে, বাণিজ্য যুদ্ধ এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর বারবার হুমকি দেওয়ায় কার্নি নতুন বাজার খোঁজার দিকে মনোনিবেশ করেছেন। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি নতুন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা জোট গঠন করেছে। কার্নির লক্ষ্য হলো আগামী এক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কানাডার রপ্তানি দ্বিগুণ করা।

