কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পুরস্কারজয়ী গবেষক ড. মার্তা শাহবাজি স্পেনে এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তিনি একটি বিজ্ঞান বিষয়ক পুরস্কার গ্রহণের জন্য নিজ দেশ স্পেনে যাচ্ছিলেন।
বুধবার মাদ্রিদের দক্ষিণে উরদার কাছে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন অন্য একটি স্থির ট্রেনের সাথে ধাক্কা খেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৬৯ জন নিহত হন। এই দুর্ঘটনায় উভয় ট্রেন মিলিয়ে মোট ৫৪০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। ইউরোপের আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই ট্রেন দুর্ঘটনার পর স্পেনে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
দুই সন্তানের জননী ড. মার্তা শাহবাজি কেমব্রিজের এমআরসি ল্যাবরেটরি অব মলিকুলার বায়োলজিতে (এলএমবি) গবেষক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তিনি মানব ভ্রূণ এবং কোষ জীববিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণার জন্য বেশ কয়েকটি পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। তাকে স্প্যানিশ সোসাইটি ফর ডেভেলপমেন্টাল বায়োলজির পক্ষ থেকে একটি পুরস্কার দেওয়ার কথা ছিল, যা গ্রহণের জন্য তিনি আন্দালুসিয়ার এল রোম্পিডোতে একটি সম্মেলনে যাচ্ছিলেন।
এলএমবি এক বিবৃতিতে তাকে একজন মেধাবী ও অনুপ্রেরণাদায়ী বিজ্ঞানী হিসেবে উল্লেখ করে তার মৃত্যুকে গভীর শোক ও অপূরণীয় ক্ষতি বলে অভিহিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, মার্তা নিজের কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে অনেক বিজ্ঞানীর কাছে আদর্শ ছিলেন। তিনি তার গবেষণার মাধ্যমে মানব ভ্রূণের বিকাশের প্রাথমিক ধাপ এবং গর্ভাবস্থায় জটিলতার কারণগুলো উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।
ড. শাহবাজি কেমব্রিজ স্টেম সেল ইনস্টিটিউটের (সিএসসিআই) সহযোগী প্রধান তদন্তকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বার্টি গটগেনস তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, প্রাথমিক ভ্রূণ বিকাশের গবেষণায় তার উদ্ভাবনী চিন্তা ও সহযোগিতামূলক মনোভাবের জন্য তিনি অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন।
ড. মার্তা শাহবাজি স্প্যানিশ ন্যাশনাল ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টারে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। এরপর ২০২০ সালে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএমবি ল্যাবে যোগ দেন। দুর্ঘটনার পর স্পেনের রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফের একটি উচ্চগতির ট্রেন আইরিও কোম্পানির একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দেয়। এটি ২০১৩ সালের পর স্পেনের সবচেয়ে বড় ট্রেন দুর্ঘটনা।

