ক্রিকেট অনেক সময় কেবল খেলার মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও বেশি কিছু হয়ে ওঠে। জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার রোববারের ওয়ানডে ম্যাচটি তেমনই ছিল। পিংক ডে উপলক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা দল তাদের সবচেয়ে উজ্জ্বল গোলাপি রঙের জার্সি পরে মাঠে নামে, যা স্তন ক্যানসার সচেতনতা ও তহবিল সংগ্রহের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ। ২০১৩ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা এই উদ্যোগ পালন করে আসছে, এমনকি কোভিড মহামারীর সময়ও তা থেমে থাকেনি।
এদিন ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ) এক অনন্য উদ্যোগ নেয়। খেলোয়াড়রা তাদের নিজেদের নামের পরিবর্তে স্তন ক্যানসার থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের নাম জার্সিতে ব্যবহার করেন। তাসমিন ব্রিটসের মা জেলডিন ব্রিটসসহ অনেকের লড়াইকে সম্মান জানানো হয় এই জার্সির মাধ্যমে। ডেভিড মিলার তার নিজের মা জেনি মিলারের সম্মানে এই জার্সি পরেন, যা এই দিনটিকে আরও আবেগপূর্ণ করে তোলে।
ম্যাচটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয় যখন পার্থে রাগবিতে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার লড়াই চলছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে বসন্তের এই দিনে ক্রিকেট ও রাগবির মধ্যে বেছে নেওয়াটা কঠিন ছিল। তবে যারা ক্রিকেট দেখছিলেন, তারা টেম্বা বাভুমা ও ডেভিড মিলারের দুর্দান্ত ব্যাটিং দেখার সুযোগ পান।
দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমে ব্যাট করে বাভুমার ১১৬ বলে ১০৩ এবং মিলারের ৯৩ বলে ক্যারিয়ার সেরা ১৪২ রানের ওপর ভর করে ৩৬৬ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। বাভুমা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে নেন, আর মিলার মারকুটে ব্যাটিংয়ে অষ্টম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। জ্যাক এডওয়ার্ডস অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রথম পাঁচ উইকেট শিকার করলেও প্রোটিয়াদের রানের গতি থামাতে পারেননি।
জবাবে অস্ট্রেলিয়া ভালো লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত ২০৩ রানে অলআউট হয়ে ৩২ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয়। এই জয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা ছয়টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ের রেকর্ড ধরে রাখল। রাগবিতে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের দিনে ক্রিকেট মাঠে এই জয়টি প্রোটিয়া ভক্তদের জন্য বাড়তি স্বস্তি বয়ে এনেছে।

