প্যারিসে সেলিন ডিওনের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্টেজ পারফরম্যান্স শুরু হতে যাচ্ছে এই সপ্তাহান্তেই। এই কনসার্টগুলো নিয়ে ভক্তদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। কানাডিয়ান এই তারকা যখন প্যারিসের একটি হোটেলে অবস্থান করছেন, তখন তাকে এক নজর দেখার জন্য প্রতিদিন শত শত ভক্ত ভিড় করছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত হোটেলের বাইরে ধাতব ব্যারিকেডের পেছনে অপেক্ষা করছেন।
৫২ বছর বয়সী নোয়েল্লা ল্যামি, যিনি নিজেকে ডিওনের অন্যতম বড় ভক্ত হিসেবে দাবি করেন, তিনি উত্তর ফ্রান্সের আমিয়েন্সের কাছে নিজের গ্রাম থেকে প্যারিসে এসেছেন। ল্যামি বলেন, "সেলিন ডিওন সাহসিকতার এক অনন্য প্রতীক এবং অনুপ্রেরণা। তিনি মানবিক এবং বিনয়ী। আমি জানি তার স্বাস্থ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে আগের মতো শো হয়তো হবে না, কিন্তু আমার বিশ্বাস তিনি নিজেকে ছাড়িয়ে যাবেন এবং এটি অত্যন্ত চমৎকার হবে।"
ল্যামি আরও বলেন, "আমার মনে হয় জীবনের প্রতিটি কঠিন সময়ে তিনি আমার পাশে ছিলেন। তিনি যখন তার স্বামীকে হারান, প্রায় একই সময়ে আমিও আমার স্বামীকে হারিয়েছিলাম। তার গানগুলো আমাকে সেই কঠিন সময় পার করতে সাহায্য করেছে। আমি প্রথম তাকে একটি ফরাসি টিভি চ্যাট শোতে গান গাইতে দেখেছিলাম।"
৫৮ বছর বয়সী সেলিন ডিওন ২০২২ সালে বিরল এবং নিরাময় অযোগ্য অটোইমিউন রোগ 'স্টিফ-পারসন সিনড্রোম'-এ আক্রান্ত হওয়ার কথা ঘোষণা করেন। এই রোগের কারণে তার পেশিতে প্রচণ্ড খিঁচুনি হতো এবং এমনকি হাড় ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ২০২৪ সালের ডকুমেন্টারি 'আই অ্যাম: সেলিন ডিওন'-এ তিনি তার শারীরিক যন্ত্রণার ভয়াবহতা তুলে ধরেন।
প্যারিসে অবস্থানকালীন ডিওন নিয়মিত হোটেলের বাইরে এসে ভক্তদের সাথে দেখা করছেন, কথা বলছেন এবং কখনও কখনও তাদের জন্য নাচছেন। তবে তিনি ভক্তদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি রিহার্সাল ছাড়া বাইরে বের হবেন না। তিনি বলেন, "আমি নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য শক্তি সঞ্চয় করছি।"
হোটেলের বাইরের এই এলাকাটি যেন একটি উৎসবের রূপ নিয়েছে। পাশের ভবনের কর্মীরাও তাদের বারান্দার স্পিকারে ডিওনের জনপ্রিয় গানগুলো বাজাচ্ছেন এবং ভিড়ের মাঝে থাকা ভক্তরা তার সাথে নাচছেন। ২১ বছর বয়সী অগাস্টিন, যিনি উত্তর ফ্রান্স থেকে এসেছেন, বলেন, "তিনি তার জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলো নিয়ে কথা বলার মতো সাহস দেখিয়েছেন, যা অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী।"
কানাডার ফরাসিভাষী কুইবেকের একটি ছোট শহরে ১৪ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট হিসেবে বেড়ে ওঠা ডিওনের ফ্রান্সে বিশাল ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে। যদিও ১৯৯৭ সালের 'মাই হার্ট উইল গো অন' গানটির জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত, তবে ফ্রান্সে তার ফরাসি ভাষার গানগুলো অত্যন্ত জনপ্রিয়। তার ১৯৯৫ সালের অ্যালবাম 'ডি'ইউক্স' সর্বকালের সেরা বিক্রিত ফ্রাঙ্কোফোন অ্যালবাম। ২০২৪ সালে প্যারিস অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইফেল টাওয়ার থেকে এডিথ পিয়াফের গান গেয়ে তিনি বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিলেন।

