চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই শীঘ্রই আমদানি শুল্ক কমানোর বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করছে। বেইজিংয়ে এক সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়াং লিং জানিয়েছেন, দুই দেশের আলোচকরা ৩০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক কমানোর বিষয়টি কার্যকর করতে কাজ করে যাচ্ছেন। চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, উভয় দেশই নিজ নিজ ৩০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর এই শুল্ক ছাড়ের সুবিধা দেবে।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গত এক বছরে এটি হবে তাদের তৃতীয় সরাসরি বৈঠক। দুই সরকারই এই বৈঠকগুলোকে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার যুগে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেছেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতাদের এই কূটনৈতিক তৎপরতা এক অপূরণীয় কৌশলগত ভূমিকা পালন করে।
এর আগে গত মে মাসে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ট্রাম্প ও শি একটি ‘ইউএস-চায়না বোর্ড অফ ট্রেড’ এবং সমান্তরালভাবে একটি ‘বোর্ড অফ ইনভেস্টমেন্ট’ গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছিলেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ব্যবস্থাপনা আরও সুসংহত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে চীনা পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপের পর চীন পাল্টা ব্যবস্থা নিলে দুই দেশের মধ্যে একটি তীব্র শুল্ক যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, যা পরে একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হয়।
বর্তমান আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো উভয় দেশের ‘অসংবেদনশীল’ পণ্যের ওপর শুল্ক শনাক্ত করে তা কমানো। তবে ফরাসি ব্যাংক ন্যাটিক্সিসের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ গ্যারি এনজি মনে করেন, দুই দেশই যেহেতু একে অপরের ওপর বাণিজ্য নির্ভরতা কমিয়ে ফেলেছে, তাই সামগ্রিক বাণিজ্যের ওপর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব আগের তুলনায় কিছুটা সীমিত হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই শুল্ক হ্রাসের ফলে যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলক বেশি উপকৃত হতে পারে, কারণ ৩০ বিলিয়ন ডলারের এই পরিমাণটি চীনের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের মোট রপ্তানির প্রায় ২৮ শতাংশ, যেখানে চীনের জন্য এটি তাদের মার্কিন বাজারে রপ্তানির মাত্র ১০ শতাংশের কাছাকাছি।

