দক্ষিণ সুদানে ভয়াবহ সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার চিকিৎসকদের একটি সংগঠন সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক এই তথ্য জানিয়েছে। সংগঠনটি সুদানে চলমান যুদ্ধের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে থাকে।
জানা গেছে, বিদ্রোহী গোষ্ঠী সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট-নর্থ (এসপিএলএম-এন) গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কর্ডোফানের কাউদা শহরের দেবি ও লুয়েরি এলাকায় এই হামলা চালায়। বিদ্রোহী নেতা আবদেল আজিজ আল-হিলুর অনুসারী যোদ্ধারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত। আল-হিলুর এই গোষ্ঠীটি দক্ষিণ সুদানের শাসক দল এসপিএলএম-এর একটি বিচ্ছিন্ন অংশ। তারা বর্তমানে দক্ষিণ কর্ডোফানে সক্রিয় এবং আরএসএফ (র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস) সমর্থিত স্থানীয় সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
এই হামলাটি এসপিএলএম-এন এবং নুবা পর্বতমালার সংখ্যালঘু ওতোরো উপজাতির মধ্যে চলা সংঘর্ষের অংশ। গত মাসে আরএসএফ সমর্থিত একটি যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ নেওয়া হলেও, চিকিৎসকদের দাবি, আল-হিলুর বাহিনীর এই আক্রমণ যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং বেসামরিক নাগরিকদের জাতিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার শামিল।
আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা নামক একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক গত সপ্তাহে তাদের বিশ্লেষণে জানিয়েছে যে, আল-হিলু যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হননি। তারা আরও জানায়, গত ২০ থেকে ২৬ আগস্টের মধ্যে এসপিএলএম-এন যোদ্ধারা ওতোরো উপজাতির ১০টি গ্রামে হামলা চালিয়ে শত শত বেসামরিক নাগরিককে বাস্তুচ্যুত করেছে। এছাড়া, বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি একটি ভিডিওর মাধ্যমে কাউদা শহর দখলের দাবিও করেছে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সাল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ-এর মধ্যে চলমান যুদ্ধে অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এছাড়া চলমান সংঘাতের জেরে দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। মার্চ মাসে জমি সংক্রান্ত বিরোধ থেকে শুরু হওয়া সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫৮ জনের মৃত্যুর রেকর্ড করেছে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল গ্রুপটি।

