পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং তার বোন কাতিয়া আভিরো পর্তুগিজ টিভি উপস্থাপক ক্রিস্টিনা ফেরেরার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজের বিয়ের বিষয়ে ‘এক্সক্লুসিভ’ খবর দেওয়ার চেষ্টার পর তারা এই টিভি চ্যানেলকে কটাক্ষ করেন। গত ১১ আগস্ট, মঙ্গলবার পর্তুগালের কাসকাইসে রোনালদো ও জর্জিনা তাদের পাঁচ সন্তানের উপস্থিতিতে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
এই বিয়ের ঘটনার পর ১২ আগস্ট সকালে ক্রিস্টিনা ফেরেরা ও ক্লদিও রামোস তাদের অনুষ্ঠান ‘দোইস আস ১০’-এর ‘কফি কনভারসেশন’ পর্বে রোনালদোর বিয়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানে তারা রোনালদোর পরিবারের সম্ভাব্য জটিলতা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিয়ের তারিখ সম্পর্কে জানতেন কি না, তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা করেন।
এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, রোনালদো তার অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে জবাব দেন। তিনি লেখেন, "ক্রিস্টিনা, আমি তোমাকে একটি এক্সক্লুসিভ খবর দিচ্ছি। এই চ্যানেলের কাছে খুব কম তথ্যই থাকে।" তার এই মন্তব্যের সাথে একমত পোষণ করে রোনালদোর বোন কাতিয়া আভিরো লিখেছেন, "ঠিক বলেছো ভাই।"
রোনালদো ও জর্জিনা ১০ বছরের সম্পর্কের পর এবং বাগদানের এক বছর পর বিয়ে করেছেন। তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেবল তাদের পাঁচ সন্তান—ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র, যমজ সন্তান ইভা ও মাতেও, আলানা মার্টিনা এবং বেলা এসমেরালদা।
এদিকে, রোনালদোর প্রতিক্রিয়ার পর ক্রিস্টিনা ফেরেরা লাইভ শোতে পাল্টা জবাব দেন। তিনি বলেন, "যদি তুমি সত্যি বলতে চাও, তবে আমাদের দরজা খোলা আছে। তুমি বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত ব্যক্তি। আমরা বছরের পর বছর ধরে এই মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলাম। হঠাৎ তোমরা বিয়ে করলে, নিজেদের হাতের ছবি পোস্ট করলে—আমরা তোমাদের হাতের প্রশংসা করেছি, কিন্তু এরপর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।" তিনি আরও দাবি করেন, কাতিয়া আভিরো বিয়ের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন কথা বলছিলেন, তাই তাদের এই বিষয়ে কথা বলতে হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে মাদ্রিদের একটি গুচি স্টোরে প্রথম দেখা হয়েছিল রোনালদো ও জর্জিনার। এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়েছিল যে তারা ৮ আগস্ট ফুনচাল ক্যাথেড্রালে বিয়ে করবেন, যা পরবর্তীতে ভুল প্রমাণিত হয়। রোনালদো গত রাতে ইনস্টাগ্রামে তাদের বিয়ের আংটি পরা একটি ছবি পোস্ট করে বিয়ের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং ২৭.৪ মিলিয়নেরও বেশি লাইক পেয়েছে।

