ইএসপিএনের ‘ফার্স্ট টেক’ অনুষ্ঠানে ক্লিভল্যান্ড ব্রাউনসের কোয়ার্টারব্যাক দেশন ওয়াটসনকে জাতীয় ফুটবল লিগের (এনএফএল) ‘কামব্যাক প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে ঘোষণা করা নিয়ে দুই বিশ্লেষকের মধ্যে তীব্র দ্বিমত তৈরি হয়েছে। ক্রীড়া বিশ্লেষক স্টিফেন এ স্মিথ ওয়াটসনকে এই পুরস্কারের প্রধান দাবিদার হিসেবে দাবি করলে নিউ ইয়র্ক জায়ান্টসের সাবেক সুপার বোল XLVI জয়ী ক্রিস ক্যান্টি তাতে আপত্তি জানান। ফার্স্ট টেকের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিও ক্লিপে ক্যান্টি স্পষ্ট উল্লেখ করেন, মুখে এ ধরনের ঘোষণা দেওয়া অত্যন্ত অস্বস্তিকর।
অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় স্টিফেন এ স্মিথ বলেন, “দেশন ওয়াটসন এই মুহূর্তে কামব্যাক প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার। এই মুহূর্তে তিনিই সবচেয়ে যোগ্য।” তার কথার জবাবে ক্যান্টি বলেন, “কথাটি মুখে বলতেও অস্বস্তি লাগে। এটি বলা সত্যিই খুব অস্বস্তিকর।” তবে স্মিথ নিজের যুক্তি তুলে ধরে যোগ করেন, “কিন্তু এটিই বাস্তব। ৫টি জয় নিয়ে দল বিভাগে শীর্ষে রয়েছে। মাঠে তিনি আগে যেমন ছিলেন আর এখন যেমন খেলছেন—সবকিছু বিবেচনা করলে তার নেতৃত্বেই চতুর্থ কোয়ার্টারে পিছিয়ে থেকেও পাঁচটি ম্যাচে জয় পেয়েছে দল।”
২০২৪ সালের অক্টোবরে সিনসিনাটির বিপক্ষে হেরে যাওয়া ম্যাচে অ্যাকিলিস টেন্ডন ছিঁড়ে যাওয়ার পর থেকেই মাঠের বাইরে ছিলেন ওয়াটসন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একই স্থানে পুনরায় চোট পাওয়ায় পুরো ২০২৫ মৌসুম মিস করেন তিনি। এই মৌসুমে ব্রাউনসের নতুন প্রধান কোচ টড মনকেনের অধীনে ট্রেনিং ক্যাম্পে শেডুর স্যান্ডার্সের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে একাদশে জায়গা নিশ্চিত করেন ওয়াটসন। এর আগে এনএফএলের ব্যক্তিগত আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ২০২২ সালে ১১ ম্যাচের সাজাও ভোগ করেছিলেন এই খেলোয়াড়।
চলতি ২০২৬ মৌসুমে প্রথম সাত ম্যাচ শেষে ওয়াটসন ২১০টি পাসের মধ্যে ১৩৬টিতে (৬৪.৮ শতাংশ) সফল হয়ে ১,৪৮২ ইয়ার্ড অর্জন করেছেন। তার ঝুলিতে রয়েছে সাতটি টাচডাউন, তিনটি ইন্টারসেপশন এবং ৯০.৬ পাসার রেটিং। ক্লিভল্যান্ড ব্রাউনস বর্তমানে ৫-২ রেকর্ডে পিটসবার্গের সমান স্থানে থাকলেও ১ অক্টোবরের ম্যাচে ২৭-২৪ ব্যবধানে সরাসরি জয়ের সুবাদে এএফসি নর্থ বিভাগে শীর্ষে অবস্থান করছে।
ব্রাউনসের প্রতিটি জয়ের পেছনেই ছিল চতুর্থ কোয়ার্টারে ওয়াটসনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জয়সূচক ড্রাইভ এবং কোনো ম্যাচেই জয়ের ব্যবধান চার পয়েন্টের বেশি ছিল না। দলটির জয়গুলো এসেছিল দ্বিতীয় সপ্তাহে টাম্পা বে-র বিরুদ্ধে ২৩-১৯, তৃতীয় সপ্তাহে ক্যারোলিনার বিরুদ্ধে ২১-১৮, চতুর্থ সপ্তাহে পিটসবার্গের বিরুদ্ধে ২৭-২৪, ষষ্ঠ সপ্তাহে বাল্টিমোরের বিরুদ্ধে ১৩-১০ এবং সপ্তম সপ্তাহে টেনেসির মাঠে ২৭-২৪ ব্যবধানে।
টেনেসির বিপক্ষে ম্যাচে প্রথম কোয়ার্টারে ১৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল ক্লিভল্যান্ড, আর বাল্টিমোরের বিরুদ্ধে পিছিয়ে ছিল ১০-০ ব্যবধানে। টেনেসিতে ২৪-২৪ সমতার পর খেলা শেষ হতে মাত্র ৫৮ সেকেন্ড বাকি থাকতে জয়সূচক ড্রাইভ শুরু করেন ওয়াটসন। তিনি দলকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার পর নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মুহূর্তে আন্দ্রে শমিট ৩২-ইয়ার্ডের ফিল্ড গোল করে জয় নিশ্চিত করেন। ক্লিভল্যান্ড আগামী রবিবার, ১ নভেম্বর বিভাগীয় শীর্ষস্থান ধরে রাখার লড়াইয়ে পিটসবার্গ সফর করবে। ২০০৩ সালের পর পিটসবার্গের মাঠে নিয়মিত মৌসুমে আর কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি ব্রাউনস।

