কান্ট্রি মিউজিক কিংবদন্তি ডলি পার্টনের মহাপ্রয়াণের পর বিশ্বজুড়ে তাঁর সুর ও কথার জাদু নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ২৫ আগস্ট ৮০ বছর বয়সে ক্যানসারের সাথে লড়াই করে মারা যান এই বহুমাত্রিক মার্কিন শিল্পী। গায়িকা, অভিনেত্রী বা সমাজসেবী হিসেবে তিনি যতটা পরিচিত, তার চেয়েও বড় পরিচয় তিনি ছিলেন এক অসাধারণ গীতিকার ও গল্পকার। বিলবোর্ডের 'হট কান্ট্রি সংস' চার্টে নারী কান্ট্রি শিল্পী হিসেবে সবচেয়ে বেশি ২৫টি গান এক নম্বরে নেওয়ার অনন্য রেকর্ড রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। তবে নিজের গাওয়া গানের বাইরেও অন্য তারকাদের জন্য এমন কিছু গান তিনি লিখেছেন, যা পরবর্তীতে কালজয়ী হিট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
ডলি পার্টনের লেখা ও সুর করা সবচেয়ে জনপ্রিয় গানগুলোর একটি হলো "আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ" (I Will Always Love You)। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে হুইটনি হিউস্টনের কণ্ঠে এই গানটি বিশ্বজুড়ে ঝড় তুলেছিল। মূলত ১৯৭৪ সালে নিজের তৎকালীন ব্যবসায়িক অংশীদার পোর্টার ওয়াগোনারকে বিদায় জানানোর প্রেক্ষাপটে এই আবেগঘন গানটি লিখেছিলেন ডলি। ১৯৭৪ ও ১৯৮৪ সালে এটি বিলবোর্ড কান্ট্রি চার্টে দুইবার শীর্ষস্থান দখল করে। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে 'দ্য বডিগার্ড' চলচ্চিত্রের জন্য প্রযোজক ডেভিড ফস্টার গানটিকে নতুনভাবে সাজান, যা হুইটনি হিউস্টনের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা গানে পরিণত হয়। ফোর্বসের তথ্যমতে, শুধু নব্বইয়ের দশকেই এই গানটির রয়্যালটি থেকে ডলি পার্টন ১০ মিলিয়ন (১ কোটি) ডলারের বেশি আয় করেছিলেন।
ডলি পার্টন তাঁর ধর্মকন্যা পপ তারকা মাইলি সাইরাসের সাথে গেয়েছেন "রেইনবোল্যান্ড" (Rainbowland) গানটি। গানটির শুরুতে মাইলিকে দেওয়া ডলির একটি বার্তা রয়েছে। ইতিবাচক বার্তার এই গানটি ২০২৩ সালে উইসকনসিনের একটি স্কুলে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের গাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে তা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। এলজিবিটিকিউ (LGBTQ) সম্প্রদায়ের প্রতি মাইলি ও ডলির সমর্থনের কারণে রংধনুর প্রতীকটিকে 'বিতর্কিত' মনে করে স্কুল কর্তৃপক্ষ এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।
রক ও আরঅ্যান্ডবি কিংবদন্তি টিনা টার্নার যখন একক ক্যারিয়ার শুরু করেন, তখন তিনি ডলি পার্টনের লেখা পিয়ানো ব্যালাড "দেয়ার'ল অলওয়েজ বি মিউজিক" (There'll Always Be Music) গানটি রেকর্ড করেন। তাঁর ১৯৭৪ সালের প্রথম একক অ্যালবাম "টিনা টার্নস দ্য কান্ট্রি অন!"-এ গানটি স্থান পায় এবং পরবর্তী বছর এটি গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়।
ডলির ১৯৬৭ সালের অ্যালবাম "হ্যালো, আই'ম ডলি"-তে থাকা একটি গান গেয়েছিলেন হ্যাঙ্ক উইলিয়ামস জুনিয়র। পেডাল স্টিল গিটারের সুরে গানটির বিষাদময় অনুভূতি ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি। এছাড়া ১৯৭৮ সালে ডলির লেখা আরেকটি হৃদয়স্পর্শী গান গেয়েছিলেন এমিলাউ হ্যারিস, যা তাঁর "কোয়ার্টার মুন ইন সেন্ট টাউন" অ্যালবামে স্থান পেয়ে সেরা ৫-এ জায়গা করে নেয়। বাবা-মায়ের দাম্পত্য ভাঙন নিয়ে লেখা এই গানটি ডলি তাঁর নিজের মায়ের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লিখেছিলেন এবং ১৯৯৫ সালে তাঁর নিজস্ব সংকলনেও এটি যুক্ত করেন।
ডলির দীর্ঘদিনের সংগীত সঙ্গী কেনি রজার্স ১৯৮৪ সালে তাঁর একটি বিষাদময় গান গেয়েছিলেন, যা ছিল মায়ের মৃত্যুর পর হারিয়ে যাওয়া বাবার সাথে এক ছেলের সাক্ষাতের গল্প নিয়ে। সে বছরই এই দুই তারকা তাঁদের যৌথ অ্যালবাম "ওয়ান্স আপন আ ক্রিসমাস" প্রকাশ করেছিলেন।

