ওভালে অলরাউন্ড নৈপুণ্য প্রদর্শন করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে ইংল্যান্ড। সিরিজের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ২২৩ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে স্বাগতিকরা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে টম ব্যান্টনের ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি এবং হ্যারি ব্রুক ও জর্ডান কক্সের জোড়া সত্তরোর্ধ্ব রানের ইনিংসে ভর করে ৭ উইকেটে ৩৫৫ রানের পাহাড় গড়ে ইংল্যান্ড। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৩৪ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। লিয়াম ডসন ও গাস অ্যাটকিনসনের বোলিং তোপে সফরকারীদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করতে সক্ষম হন কুশল মেন্ডিস। এই জয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা পঞ্চম ওয়ানডে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ের রেকর্ড গড়ল ইংল্যান্ড।
টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া ইংল্যান্ডের শুরুটা ভালো ছিল না। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই দিলশান মাদুশঙ্কার বলে বোল্ড হয়ে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার বেন ডাকেট। এরপর ক্রিজে এসে ব্যান্টনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন জো রুট। এই জুটি প্রথম ১০ ওভারে ইংল্যান্ডকে ৫০ রানে পৌঁছে দেয়। রুট কিছুটা ধীরগতিতে খেললেও ব্যান্টন ছিলেন বেশ সাবলীল। নবম ওভারে স্লিপে পাথুম নিশাঙ্কার হাতে জীবন পাওয়া রুট টানা ১২টি ডট বল খেলে রানের জন্য সংগ্রাম করছিলেন। অন্যপ্রান্তে ব্যান্টন দারুণ ব্যাটিং করে ১৪তম ওভারে মাদুশঙ্কাকে আপার-কাট করে ম্যাচের প্রথম ছক্কা হাঁকান। দ্বিতীয় উইকেটে ৬২ রান যোগ করার পর ৩৭ বলে ১৮ রান করা রুটকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন জেনিথ লিয়ানাগে। শ্রীলঙ্কা সফল রিভিউ নিয়ে রুটকে বিদায় করে।
রুটের বিদায়ের পর হ্যারি ব্রুক ক্রিজে এসে শুরুতে রান তুলতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। ২১তম ওভারে দুনিথ ওয়েল্লালাগের বলে উইকেটরক্ষক কুশল মেন্ডিস ব্রুকের ক্যাচ মিস করলে তিনি বেঁচে যান। এরপর ব্রুকের বিপক্ষে একটি এলবিডব্লিউর আবেদনে রিভিউ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা, যদিও পরে আল্ট্রা-এজে দেখা যায় বল গ্লাভসে লেগেছিল। অন্যদিকে, সচিন্দু কোলোম্বাগের বলে ব্যান্টনের বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউর রিভিউ নিয়ে ব্যর্থ হয় লঙ্কানরা, কারণ বল ব্যাটের বাইরের কানায় লেগেছিল। ধীরগতির শুরু করা ব্রুক ২৬তম ওভারে লিয়ানাগেকে দুটি চার ও একটি ছক্কা মেরে গতি ফিরে পান। এরপর এশান মালিঙ্গার বলে চার এবং কোলোম্বাগেকে ছক্কা মেরে ৪৯ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।
ব্যান্টন ও ব্রুকের তৃতীয় উইকেট জুটি দ্রুত রান তুলতে থাকে এবং শত রানের মাইলফলক স্পর্শ করে। ৩৩তম ওভারে ওয়েল্লালাগের বলে চার মেরে ৯৫ বলে নিজের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ব্যান্টন। একই ওভারে ব্রুকও দুটি চার মারেন। ৩৪তম ওভারে মাদুশঙ্কার ওপর চড়াও হয়ে ব্যান্টন দুটি ছক্কা মারেন, যার প্রথমটিতে ভর করে ইংল্যান্ডের স্কোর ২০০ পার হয়। এই ওভারে মাদুশঙ্কা ২২ রান খরচ করেন। ব্রুক ও ব্যান্টনের ১৫০ রানের জুটিটি শেষ পর্যন্ত ৩৫তম ওভারে ভাঙেন অসিথা ফার্নান্দো। ৭৭ রান করা ব্রুককে ফিরিয়ে দেন তিনি। এর তিন ওভার পর কোলোম্বাগের বলে পরপর দুটি চার মারার পর লং-অনে ক্যাচ দিয়ে ১২৬ রানে বিদায় নেন ব্যান্টন।
৪০ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ২৫১ রান। শেষ ১০ ওভারে জর্ডান কক্সের দ্রুতগতির হাফ-সেঞ্চুরি এবং উইল জ্যাকস ও জেমি ওভারটনের ২০ রানের ক্যামিও ইনিংসে ভর করে ১০৪ রান যোগ করে ইংল্যান্ড, যার মধ্যে শেষ ৫ ওভারেই আসে ৫৭ রান। জ্যাকস দুটি চার ও একটি ছক্কা মেরে কোলোম্বাগের শিকার হন। কক্স ৪২ বলে নিজের হাফ-সেঞ্চুরি পূরণ করার পর শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৭৬ রান করে ইনিংসের শেষ বলে অসিথা ফার্নান্দোর শিকার হন। ফার্নান্দো ৬৪ রানে ৩টি উইকেট নেন।
৩৫৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। মাত্র ১ রান করে সনি বেকারের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন পাথুম নিশাঙ্কা, যা ছিল বেকারের প্রথম ওয়ানডে উইকেট। কামিন্দু মেন্ডিস কয়েকটি বাউন্ডারি মারলেও গাস অ্যাটকিনসনের বলে আউট হন। কুশল মেন্ডিস অ্যাটকিনসনকে দুটি ছক্কা এবং বেকারকে একটি চার ও একটি ছক্কা মেরে ভালো শুরু করলেও অ্যাটকিনসনের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ৩৫ রানে বিদায় নেন। ১০ম ওভারে প্রথম বোলিংয়ে আসা জোফ্রা আর্চারকে দুটি চার মারেন পবন রথনায়েকে।
রথনায়েকে ও চারিথ আশালঙ্কা মিলে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করলেও রান তোলার গতি ছিল ধীর। চাপের মুখে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হন রথনায়েকে। আর্চারের সরাসরি থ্রো স্টাম্পে আঘাত করার আগেই কক্স বেল ফেলে দেওয়ায় সিদ্ধান্তটি তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে যায় এবং আম্পায়ার আউট ঘোষণা করেন। পরের ওভারেই জো রুটের বলে পুল শট খেলতে গিয়ে ৭ রানে আউট হন আশালঙ্কা। এরপর লিয়াম ডসনের স্পিন ঘূর্ণিতে কুপোকাত হয় লঙ্কান মিডল অর্ডার। দুনিথ ওয়েল্লালাগে ডসনের বলে স্লগ-সুইপ করতে গিয়ে আউট হলে শ্রীলঙ্কার স্কোর দাঁড়ায় ৮২ রানে ৬ উইকেট। জেনিথ লিয়ানাগে রুটের ওভারে একটি চার ও একটি ছক্কা মেরে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও জেমি ওভারটনের বলে ১৯ রান করে আউট হন। ডসন এরপর কোলোম্বাগেকে স্টাম্পড এবং অসিথা ফার্নান্দোকে ৬ রানে ফিরিয়ে নিজের তৃতীয় উইকেট নেন। শেষ উইকেটে এশান মালিঙ্গা ডসনকে দুটি চার মারলেও উইল জ্যাকসের বলে লেগ-স্লিপে জো রুটের এক অসাধারণ ক্যাচে পরিণত হন। ফলে ৩০তম ওভারেই ১৩৪ রানে শ্রীলঙ্কার ইনিংস গুটিয়ে যায় এবং ইংল্যান্ড ২২৩ রানের সহজ জয় নিশ্চিত করে।

