টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে নবাগত লেখক ও পরিচালক জোনাথন শেইয়ের প্রথম সিনেমা ‘এভরিবডি ওয়ান্টস টু ফাক মি’ (Everybody Wants to Fuck Me)। ডার্ক কমেডি ও স্টকার থ্রিলারের এক দারুণ মিশ্রণে তৈরি এই সিনেমাটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ট্যারন এগারটন। সিনেমাটিকে ২০১৭ সালের ভাইরাল হওয়া ‘শিটি মিডিয়া মেন’ (Shitty Media Men) তালিকা এবং বিখ্যাত ‘গেট আউট’ (Get Out) সিনেমার একটি অত্যন্ত বিনোদনমূলক সংমিশ্রণ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
সিনেমার গল্প গড়ে উঠেছে অ্যাডাম নামের এক চরিত্রকে কেন্দ্র করে, যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন ট্যারন এগারটন। অ্যাডাম এমন এক ‘ভালো ছেলে’ যে অন্য পুরুষদের মতো নারীদের অসম্মান করে না, বরং নারীদের কণ্ঠস্বরকে তুলে ধরতে কাজ করে। সে একটি নারী পরিচালিত আর্ট গ্যালারিতে চাকরি করে, নিজের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সচেতন, হ্যাকনির ক্যাফেতে বসে এডনা ও’ব্রায়েনের ‘কান্ট্রি গার্ল’ পড়ে, নিজের ফ্ল্যাটে ‘ক্লিও ফ্রম ফাইভ টু সেভেন’ (Cléo from 5 to 7) সিনেমার পোস্টার ঝুলিয়ে রাখে এবং নিজের পোষা কুকুরের নাম রেখেছে তার প্রিয় ‘হাইম’ (Haim) ব্যান্ডের এক বোনের নামে। কিন্তু জোনাথন শেইয়ের এই সিনেমায় অ্যাডাম আসলে একজন ভণ্ড প্রেমিক।
নেটফ্লিক্সের থ্রিলার ছবি ‘ক্যারী-অন’ (Carry-On) বা ‘অ্যাপেক্স’ (Apex) এবং অ্যাপলের দুটি ড্রামায় অভিনয়ের পর ট্যারন এগারটন এই সিনেমায় তার অভিনয় দক্ষতার এক নতুন দিক উন্মোচন করেছেন। সিনেমার শুরুতেই অ্যাডামের সঙ্গে মিয়া ম্যাককেনা-ব্রুসের অভিনীত এক লন্ডনবাসীর চমৎকার সাক্ষাৎ ঘটে। তারা ট্রয় সিভানের গানের তালে নাচেন, ‘বিফোর সানসেট’ সিনেমা নিয়ে আলোচনা করেন এবং একপর্যায়ে অ্যাডামের ফ্ল্যাটে তাদের শারীরিক সম্পর্ক হয়। কিন্তু পরদিন সকালেই অ্যাডামের আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়। অ্যাডামের সমকামী পরম বন্ধু এমা (চার্লি ক্লাইভ) তার এই আচরণকে ‘রোমান্টিক সন্ত্রাসবাদ’ বলে অভিযুক্ত করে। এরপর অ্যাডাম থিয়েটার বারে সোফিয়া (জেসিকা হেনউইক) নামের এক নারীর সঙ্গে ডেট করার চেষ্টা করে, যে তার ভণ্ডামি সহজেই ধরে ফেলে। তা সত্ত্বেও সোফিয়া তাকে নিজের বাসায় আমন্ত্রণ জানায়।
সেদিন রাতে সোফিয়ার ফ্ল্যাটে এক রহস্যময় ঘটনা ঘটে, যার সুনির্দিষ্ট বিবরণ অ্যাডামের কাছে স্পষ্ট নয়। ধূমপান করার পর সে অচেতন হয়ে পড়ে এবং পরদিন সকালে জেগে উঠে দেখে সোফিয়া উধাও। এরপর থেকেই অ্যাডামের চারপাশের জগৎ অদ্ভুতভাবে বদলে যেতে শুরু করে। মেট্রো ট্রেনে নারীরা তার দিকে তীব্রভাবে তাকাতে থাকে, সহকর্মীরা তার সাধারণ কৌতুক শুনেও অতিরিক্ত হাসে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তার পোষা কুকুর আলানাও তাকে ভিন্ন নজরে দেখতে শুরু করে।
সিনেমায় গত বছরের আলোচিত ‘অবসেশন’ (Obsession) ছবির কিছু উপাদান থাকলেও এটি মূলত একটি ‘সোশ্যাল থ্রিলার’। সিনেমাটিতে ‘ব্লিংক টুয়াইস’ (Blink Twice) বা ‘ডোন্ট ওয়ারি ডার্লিং’ (Don't Worry Darling)-এর মতো সিনেমার চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমত্তা ও হাস্যরসের ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছে। তবে সিনেমার শেষভাগে কাহিনীর কিছু দুর্বলতা এবং শেষ দৃশ্যের একটি বহুল ব্যবহৃত ফর্মুলা নিয়ে কিছুটা সমালোচনা রয়েছে।
মার্গো রবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘লাকিচ্যাপ’ (LuckyChap) থেকে নির্মিত এই সিনেমাটি তাদের আগের ছবি ‘প্রমিজিং ইয়ং ওম্যান’ (Promising Young Woman)-এর চেয়েও আবেগীয় দিক থেকে অনেক বেশি পরিপক্ব এবং বাস্তবসম্মত লন্ডনের পটভূমিতে চিত্রায়িত হয়েছে। পরিচালক জোনাথন শেই অ্যাডাম চরিত্রটিকে কেবল একটি বিদ্রূপাত্মক মিম হিসেবে উপস্থাপন না করে একজন বাস্তব মানুষ হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আর ট্যারন এগারটনের নির্ভীক ও দুর্দান্ত অভিনয় সিনেমাটিকে এক অনন্য রূপ দিয়েছে, যা তাকে একজন প্রতিভাবান কমেডি অভিনেতা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করে।

