জুলাই মাসে মেইনের বিডেফোর্ড এলাকায় এক কলম্বিয়ান নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় এফবিআই কোনো ধরনের সিভিল রাইটস তদন্ত পরিচালনা করছে না। অথচ ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তার এই গুলিবর্ষণের ঘটনাটি নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৪ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে বিকেল ৩:৪৫ মিনিটে সিবিএস নিউজ এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ঘটনাটি গত ১৩ জুলাইয়ের। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) দাবি, ভুক্তভোগী গুয়েরেরো গাড়ি নিয়ে পালানোর সময় জননিরাপত্তার কথা ভেবে ওই কর্মকর্তা গুলি চালিয়েছিলেন। যদিও ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে অন্য চিত্র দেখা গেছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, গাড়ি থেকে নামানোর সময় গুয়েরেরোকে বলতে শোনা গিয়েছিল, 'আমি থামার চেষ্টা করেছি'।
আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের ঘটনায় এফবিআই এবং বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশনের তদন্ত করা উচিত ছিল। রুল অফ ল প্রোগ্রামের পরিচালক স্যাম ট্রেপেল বলেন, 'সাধারণত এই ধরনের ঘটনায় এফবিআই তদন্ত করে। সম্প্রতি এটি টেক্সাসের একটি মামলায় সহায়তা করেছে, যেখানে ২০২১ সালের আগস্টে এক ব্যক্তিকে চোকহোল্ডে আটকানোর ঘটনায় এক এজেন্টকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।'
এফবিআইয়ের বোস্টন ফিল্ড অফিস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি এবং সব প্রশ্ন ডিএইচএস ইন্সপেক্টর জেনারেল ও মেইনের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছে। বিচার বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে ডিএইচএস ইন্সপেক্টর জেনারেল এবং মেইন অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর যৌথভাবে তদন্ত করছে। তবে ভুক্তভোগীর পরিবারের আইনজীবী বেন গিডিওন দাবি করেছেন, এখন পর্যন্ত কোনো ফেডারেল সংস্থা তাদের সাথে যোগাযোগ করেনি।
ডিএইচএস জানিয়েছে, গুয়েরেরো এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলেন না। অথচ তার গাড়ির উইন্ডশিল্ডে চারটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার সময় আইস (ICE) কর্মকর্তাদের শরীরে কোনো বডি ক্যামেরা ছিল না, যদিও ঘটনার পর থেকে আইস তাদের কর্মকর্তাদের জন্য বডি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করেছে।
এর আগেও মিনিয়াপোলিস এবং হিউস্টনে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। মেইনের এই ঘটনাটি নিয়ে এফবিআইয়ের নীরবতা জনমনে আস্থার সংকট তৈরি করছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এটি প্রমাণ করে যে ফেডারেল কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রক্রিয়াটি আগের মতো স্বচ্ছ বা স্বাধীন নাও হতে পারে।

