প্যারিস সেন্ট-জার্মেইর (পিএসজি) স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস চলতি মৌসুমের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে তার সাবেক ক্লাব এফসি বার্সেলোনার নাম উল্লেখ করেছেন। গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্লোভান ব্রাতিসলাভার বিপক্ষে পিএসজির ম্যাচের পর ২৬ বছর বয়সী এই তারকা ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতার ফেভারিটদের নিয়ে নিজের মতামত জানান। নিজের বর্তমান ক্লাব পিএসজিকে সমর্থন করার পাশাপাশি তিনি বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ এবং বায়ার্ন মিউনিখকে শিরোপার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে তোরেস বলেন, "হ্যাঁ, বার্সেলোনা অন্যতম দল যাদের শিরোপা জেতার সম্ভাবনা রয়েছে।" এই স্ট্রাইকার আরও যোগ করেন, "রিয়াল মাদ্রিদও আমাদের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী, সেই সাথে বায়ার্ন মিউনিখ এবং আমরা নিজেরাও আছি। এটি একটি বড় প্রতিযোগিতা হতে যাচ্ছে।" চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম রাউন্ডে তোরেস নিজে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন। পার্ক দেস প্রিন্সেসে স্লোভান ব্রাতিসলাভার বিপক্ষে পিএসজির ৬-১ ব্যবধানের বড় জয়ে হ্যাটট্রিক করেন ২৬ বছর বয়সী এই তারকা।
প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে বার্সেলোনাও গোল উৎসবে মেতেছিল। স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে তারা ফেইনুর্ডকে ৫-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয়। বার্সার হয়ে রাফিনহা জোড়া গোল করেন এবং লামিন ইয়ামাল, করিম আদেইয়েমি ও গ্যাব্রিয়েল জেসুস একটি করে গোল করেন। অন্যদিকে, ইন্টার মিলানের বিপক্ষে বেশ কষ্টার্জিত ২-১ ব্যবধানের জয় পায় রিয়াল মাদ্রিদ। আর আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বৃহস্পতিবার বোডো/গ্লিমটের জালে ৫ গোল জড়ায় বায়ার্ন মিউনিখ। তোরেসের মতে, এই চার দলেরই দারুণ আক্রমণভাগ রয়েছে এবং সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে তারা টুর্নামেন্টে অনেক দূর যাবে।
গ্রীষ্মকালীন দলবদলে অ্যান্থনি গর্ডন, করিম আদেইয়েমি, রদ্রি এবং গ্যাব্রিয়েল জেসুসের মতো তারকাদের দলে ভিড়িয়ে বার্সেলোনা বর্তমানে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত হয়েছে। হান্সি ফ্লিকের অধীনে কাতালান জায়ান্টরা চলতি মরসুমে দুর্দান্ত সূচনা করেছে। লা লিগায় ২৩ আগস্ট এলচেকে ৫-০ গোলে হারিয়ে যাত্রা শুরু করার পর তারা অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ২-০ এবং রায়ো ভালেকানোকে ৫-২ ব্যবধানে পরাজিত করে। এরপর ভালেন্সিয়াকে ৫-০ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম ম্যাচে ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে দলটি। এই পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই তারা অন্তত পাঁচটি করে গোল করেছে। সব মিলিয়ে তারা ২২টি গোল করার বিপরীতে হজম করেছে মাত্র তিনটি গোল এবং তিনটি ম্যাচে কোনো গোলই খায়নি।

