ফ্লোরিডার ৭ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের রিপাবলিকান প্রাইমারি নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় ঘটেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের জোরালো সমর্থন থাকা সত্ত্বেও বর্তমান কংগ্রেস সদস্য কোরি মিলসকে পরাজিত করেছেন রায়ান ইলাইজাহ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, একাধিক কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত দুই মেয়াদের আইনপ্রণেতা মিলস এই নির্বাচনে হেরে গেছেন।
প্রতিনিধি পরিষদের এথিক্স কমিটির একাধিক তদন্তের মুখোমুখি হওয়া কোরি মিলস তার পুনঃনির্বাচনী প্রচারণার জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে বেশ হিমশিম খাচ্ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে এক সাবেক প্রেমিকার নগ্ন ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ, যার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর একটি আদালত তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এছাড়া গত বছরের শুরুর দিকে অন্য এক নারীর ওপর শারীরিক হামলার অভিযোগে পুলিশ তদন্ত করলেও শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারির পাশাপাশি মিলসের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণার তহবিল সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন, কংগ্রেসের সম্পদ অপব্যবহার এবং অনৈতিকভাবে উপহার বা বিশেষ সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে এথিক্স প্যানেল। তবে মিলস তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়নি।
নারীদের সঙ্গে মিলসের এই ধরনের আচরণের অভিযোগ ওঠার পর তার দলের কয়েকজন রিপাবলিকান সহকর্মী এক পর্যায়ে তাকে প্রতিনিধি পরিষদ থেকে বহিষ্কারের চিন্তাভাবনাও করেছিলেন। সম্প্রতি ফ্লোরিডার দুই রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা আন্না পলিনা লুনা এবং মাইক হারিডোপোলোস প্রতিদ্বন্দ্বী রায়ান ইলাইজাহকে সমর্থন জানান। তারা কংগ্রেসে এমন নেতৃত্বের আহ্বান জানান যারা সততা, শক্তি এবং জনগণের প্রতি অবিচল প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করবেন।
এমনকি ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসও গত সপ্তাহে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি কোরি মিলসকে সমর্থন করেননি এবং করবেনও না। ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ার সেন্টার ফর পলিটিক্স এই আসনটিকে রিপাবলিকানদের জন্য নিরাপদ হিসেবে মূল্যায়ন করলেও, ডেমোক্র্যাটরা মনে করছে নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে আসনটি তাদের দখলে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে; বিশেষ করে ব্যালটে মিলস থাকলে তা আরও সহজ হতো।

