ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি গ্যারি নেভিল ক্লাবের ইতিহাসে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে বাজে দুই সাইনিং হিসেবে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া এবং অ্যান্থনিকে চিহ্নিত করেছেন। ২০১৩ সালে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ের পর কিংবদন্তি স্কটিশ ম্যানেজারের বিদায়ের পর থেকেই ইউনাইটেড তাদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে এবং এর অংশ হিসেবে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করে অসংখ্য খেলোয়াড় দলে ভিড়িয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত, এর বেশিরভাগই প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
দ্য অ্যাথলেটিকের সাথে এক আলাপচারিতায় গ্যারি নেভিল প্রথমে ২০১৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে আসা অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ডি মারিয়ার আগমন নিয়ে তিনি অত্যন্ত উত্তেজিত ছিলেন এবং ভেবেছিলেন এটি একটি অসাধারণ সাইনিং হবে। কিন্তু খেলোয়াড়টি খাপ খাইয়ে নিতে পারেননি এবং মানিয়ে নেওয়ার ব্যর্থতার কারণেই তাকে বাজে সাইনিং হিসেবে গণ্য করছেন নেভিল।
এরপরই তিনি এরিক টেন হাগের অধীনে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে দলে আসা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড অ্যান্থনির নাম উল্লেখ করেন। নেভিল স্পষ্ট করেন যে, এটি খেলোয়াড়টির প্রতি কোনো ব্যক্তিগত সমালোচনা নয়, বরং ইউনাইটেডের হঠকারী সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। তিনি বলেন, বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের দিক থেকে অ্যান্থনি এবং ডি মারিয়া—এই দুজনকে তিনি তালিকার শীর্ষে রাখবেন।
তবে গত দুই মৌসুমে ক্লাবের করা সাইনিংগুলোর বিষয়ে নেভিল কিছুটা আশাবাদী। তিনি জানান, ব্রায়ান এমবেউমো, ম্যাথিউস কুনহা এবং সেনে ল্যামেন্সের মতো খেলোয়াড়রা ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছেন এবং স্ট্রাইকার বেঞ্জামিন সেসকোও একই পথ অনুসরণ করবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
এদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বর্তমানে মাঠের পারফরম্যান্সে কিছুটা পিছিয়ে আছে। মাইকেল ক্যারিকের অধীনে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ৫ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে রেড ডেভিলরা। আন্তর্জাতিক বিরতির পর টটেনহ্যামের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তারা ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।
একই সাথে ইনজুরির সমস্যায় জর্জরিত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড নতুন করে দুঃসংবাদ পেয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর উয়েফা নেশনস লিগে ডেনমার্ক ও ওয়েলসের মধ্যকার ম্যাচে ডেনমার্কের ২১ বছর বয়সী তারকা প্যাট্রিক ডরগু ইনজুরিতে পড়েছেন। ম্যাচের ২৯ মিনিটের মাথায় তিনি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়েন। ইউনাইটেডের লেফট-ব্যাক পজিশনে এমনিতেই গভীরতার অভাব রয়েছে, লুক শ সম্প্রতি ইনজুরি থেকে ফিরলেও এখনো পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পারেননি। তাই ডরগুর এই চোট ক্লাব কর্তৃপক্ষের জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

