ওয়াইওমিংয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের ছোট্ট শহর কেমেরার দীর্ঘকাল ধরে কয়লা খনি, জীবাশ্মযুক্ত মাছের আকর এবং জেসি পেনি স্টোরের জন্য পরিচিত। তবে শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে ৫ মাইল দূরে এখন বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেটের অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে এক অভিনব পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এই ছোট আকারের রিঅ্যাক্টরটির নির্মাণ ও পরিচালনার গতি সাধারণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনায় অনেক দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটিতে করদাতাদের ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
টেরাপাওয়ারের এই 'ন্যাট্রিয়াম' প্রকল্পটি স্থানীয় প্রায় ২১,০০০ বাসিন্দার মধ্যে অন্তত অর্ধেক মানুষের কাছে বেশ সমাদৃত হয়েছে। আগামী চার বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা এই প্রকল্পটি ট্রাম্প প্রশাসনের জ্বালানি বৈচিত্র্য আনার কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি মূলত তথ্য কেন্দ্র ও উৎপাদন শিল্পে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
কয়লা খনিগুলো বন্ধের পথে থাকায় কর্মসংস্থান যখন দুষ্প্রাপ্য, তখন এই পরমাণু প্রকল্পটি হাজার হাজার নির্মাণ শ্রমিককে কাজ দিচ্ছে। ফলে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো, যেমন ফসিল ফুয়েল কফি কোং, সুপার ৮ মোটেল এবং স্ক্রাউঞ্জি মুস পিৎজা চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। তবে স্থানীয়দের মধ্যে এই প্রকল্প ও এর নেপথ্যের ধনকুবেরদের নিয়ে গভীর সংশয়ও রয়েছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর কয়লা খনিতে কাজ করা মিশেল পোলার্ডের মতে, সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে এবং তিনি এই প্রকল্পটি নিয়ে আশাবাদী।
প্রকল্পটির সমালোচকরা মনে করেন, বায়ু ও সৌরশক্তির মতো সাশ্রয়ী প্রযুক্তি থাকতে পরমাণু শক্তির ওপর এই ঝোঁক অযৌক্তিক। ইউনিয়ন অব কনসার্নড সায়েন্টিস্টস-এর বিজ্ঞানী এডউইন লাইম্যানের মতে, এই উদ্যোগটি প্রকৃত উদ্ভাবনের চেয়ে মতাদর্শ দ্বারা বেশি চালিত। এছাড়া পরমাণু বর্জ্যের ঝুঁকি এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণেও অনেকে এর বিরোধিতা করছেন। শার্লট শারবেন নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা প্রশ্ন তুলেছেন, বিল গেটস কেন নিজের অর্থে এই প্রকল্প সম্পন্ন করছেন না এবং কেন সরকারি অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।
টেরাপাওয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি একটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব যেখানে কোম্পানি ও করদাতারা সমান অবদান রাখছে। বর্তমানে সাইটটিতে নির্মাণ কাজ চলছে এবং এলাকাটি নতুন এক পরমাণু শক্তির যুগে প্রবেশ করছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

