ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় মোখা বন্দরের আবাসিক এলাকা ও বন্দর স্থাপনায় হুথিদের হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং প্রায় ৩৫ জন আহত হয়েছেন। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কাছে অবস্থিত এই বন্দরটি ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সরকারি সংবাদ সংস্থা সাবা এবং বিভিন্ন চিকিৎসা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রবিবার চালানো এই হামলায় বন্দর কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকরা হতাহত হয়েছেন। এএফপি-এর তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে আটজন সরকারি বাহিনীর সদস্য এবং তিনজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো নিহতের সংখ্যা অন্তত সাতজন বেসামরিক নাগরিক বলে উল্লেখ করেছে। উপ-তথ্যমন্ত্রী ফায়য়াদ আল-নোমান জানিয়েছেন, হামলায় বন্দরের জেটি, বাণিজ্যিক পণ্য, খাদ্য সরবরাহ এবং বিভিন্ন ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি হামলার দায় স্বীকার করে একে একটি বড় আকারের এবং উচ্চমানের সামরিক অভিযান বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি দাবি করেন, মোখা এলাকায় সৌদি সামরিক অবস্থান ও অস্ত্র গুদাম লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বহু হতাহতের কারণ হয়েছে।
এদিকে, সরকারি সামরিক সূত্র জানিয়েছে যে, মোখা বন্দরের জেটি লক্ষ্য করে হুথিদের পাঠানো একটি বিস্ফোরকবাহী নৌকা ধ্বংস করেছে সরকারি বাহিনী। এছাড়া শহরের আকাশে হুথিদের বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। সাবা জানিয়েছে, তাইজ শহরের উত্তর-পশ্চিমে আল-মাহরুর এলাকায় সরকারি বাহিনী বোমা বর্ষণ করেছে। এছাড়া মাকবানাহ ফ্রন্টের হামির এবং সাবির আল-মাসরাহ জেলার আল-আকরুদ ফ্রন্টে হুথিদের জমায়েত লক্ষ্য করে কামান হামলা চালানো হয়েছে। আল-মাদারিজ পাহাড়ের হুথি অবস্থানেও সরকারি বাহিনী আঘাত হেনেছে।
২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশের বড় একটি অংশ হুথিদের দখলে রয়েছে। দীর্ঘ ১২ বছরের যুদ্ধের পর ২০২২ সালের এপ্রিল মাস থেকে দেশটিতে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। তবে গত মাস থেকে বিভিন্ন ফ্রন্টে লড়াই নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে, যার ফলে উভয় পক্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

