পাঁচবারের জাতীয় হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন এবং কানাডিয়ান বক্সিং কিংবদন্তি জর্জ চুভালো ৮৯ বছর বয়সে পরলোকগমন করেছেন। টরন্টোর সুলি’স বক্সিং জিম, যেখানে তিনি প্রশিক্ষণ নিতেন, এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিজের জন্মদিনের দিনই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পেশাদার ক্যারিয়ারে মোট ৯৩টি লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন চুভালো। এর মধ্যে ৭৩টিতে জয়, ১৮টিতে হার এবং দুটি ড্র ছিল। বিস্ময়কর বিষয় হলো, তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একবারের জন্যও তাকে রিংয়ের মেঝেতে ধরাশায়ী বা নকডাউন করা সম্ভব হয়নি। সুলি’স বক্সিং জিমের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, চুভালোকে নিয়ে লেখা গল্পগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বক্সারদের অনুপ্রাণিত করেছে এবং তার ছবিগুলো দশকের পর দশক ধরে তাদের দেয়ালে শোভা পেয়েছে।
১৯৬৬ এবং ১৯৭২ সালে মুহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে লড়েছিলেন চুভালো। যদিও তিনি উভয় ম্যাচেই পরাজিত হয়েছিলেন, তবে কিংবদন্তি আলী তাকে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। জর্জ ফোরম্যান এবং জো ফ্রেজিয়ারের মতো বিশ্বখ্যাত বক্সারদের বিরুদ্ধে লড়াই করা চুভালোকে কানাডার সর্বশ্রেষ্ঠ যোদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার অদম্য মনোবল এবং কঠিন লড়াইয়ের ক্ষমতার জন্য তিনি বক্সিং বিশ্বে সুপরিচিত ছিলেন।
১৯৩৭ সালে ক্রোয়েশিয়ান অভিবাসী বাবা-মায়ের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন চুভালো। টরন্টোতে বেড়ে ওঠা চুভালো ছোটবেলা থেকেই বক্সিংয়ের প্রতি আকৃষ্ট হন। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড তাকে একজন কানাডিয়ান আইকন এবং পারিবারিক বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে শোক প্রকাশ করেছেন।
১৯৭৮ সালে পেশাদার বক্সিং থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি কানাডাজুড়ে একজন বক্তা হিসেবে মাদকবিরোধী শিক্ষা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে কাজ শুরু করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তার স্ত্রী এবং তিন ছেলেকে মাদকাসক্তি ও আত্মহত্যার কারণে হারিয়েছেন। ১৯৯৮ সালে সিবিসি রেডিওর এক প্রতিবেদনে তিনি বলেছিলেন, কেউ যদি কখনো মাদক গ্রহণের কথা চিন্তা করে, তবে যেন তার এবং তার পরিবারের পরিণতির কথা স্মরণ করে।
অবসর জীবনে তিনি অভিনয় জগতেও পা রাখেন। ১৯৮৬ সালের হরর সিনেমা 'দ্য ফ্লাই'-এ জেফ গোল্ডব্লামের সঙ্গে এবং ১৯৯৮ সালের কমেডি ফিল্ম 'ডার্টি ওয়ার্ক'-এ তাকে দেখা গিয়েছিল। এছাড়া বন্ধু চার্লস 'স্পাইডার' জোন্সের সাথে 'গ্রেটেস্ট নকআউটস' নামের একটি টিভি বক্সিং অনুষ্ঠানও পরিচালনা করেছেন তিনি। চুভালো তার পেছনে রেখে গেছেন বড় ছেলে মিচ, মেয়ে ভেনেসা, নাতী-নাতনী এবং দ্বিতীয় স্ত্রী জোয়ানকে।

