
ইউরোপে উচ্চশিক্ষা কিংবা পেশাগত জীবনের স্বপ্নপূরণে অনেকেই প্রথম বড় বাধা হিসেবে দেখেন IELTS পরীক্ষাকে। উপযুক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা বা দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও শুধু কাঙ্ক্ষিত ইংরেজি স্কোর না থাকায় বা পরীক্ষার ফি-সংকটের কারণে প্রতিবছর অসংখ্য শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী আবেদন করা থেকে পিছিয়ে পড়েন।
তবে শিক্ষাবিদ ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সুযোগ ও তথ্য জানা থাকলে আইইএলটিএস ছাড়াই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পথ সুগম করা সম্ভব।
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিকল্প মাধ্যম
ইউরোপের অনেক খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় আইইএলটিএস ছাড়াও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে। সে ক্ষেত্রে প্রধান বিকল্পগুলো হলো:
মিডিয়াম অব ইন্সট্রাকশন (MOI): শিক্ষার্থী যদি ব্যাচেলর বা আগের পড়াশোনা ইংরেজি মাধ্যমে শেষ করে থাকেন, তবে নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া ‘MOI Certificate’ জমা দিয়ে অনেক দেশে সরাসরি আবেদন করা যায়।
বিকল্প ইংরেজি পরীক্ষা: ডুয়োলিঙ্গো (Duolingo), টোফেল (TOEFL) বা পিটিই (PTE)—এর মতো কম খরচের ও সহজে দেওয়া যায় এমন ভাষার পরীক্ষার গ্রহণযোগ্যতা এখন ইউরোপে অনেক বেড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব টেস্ট বা সাক্ষাৎকার: অনেক বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন ইন্টারভিউ বা নিজস্ব অ্যাসেসমেন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর ইংরেজি দক্ষতা যাচাই করে থাকে।
জনপ্রিয় দেশসমূহ: ফ্রান্স, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও জার্মানির বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সুযোগ রয়েছে।
কর্মসংস্থান ও জব সিকার ভিসা
পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে ইউরোপের দেশগুলোতে আবেদনের প্রধান শর্ত থাকে কাজের অভিজ্ঞতা ও টেকনিক্যাল দক্ষতা, আলাদা কোনো ভাষার টেস্ট স্কোর নয়।
স্পন্সরশিপ ও ওয়ার্ক পারমিট: তথ্যপ্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং, হেলথকেয়ার কিংবা রেস্তোরাঁ ও নির্মাণ খাতে সরাসরি কাজের অফার লেটার পেলে আইইএলটিএস ছাড়ায় ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়া সম্ভব।
জব সিকার ভিসা: পর্তুগাল, জার্মানি ও সুইডেনের মতো দেশগুলো সরাসরি দেশে গিয়ে চাকরি খোঁজার জন্য ‘জব সিকার ভিসা’ দিয়ে থাকে। এতে আবেদন করতে স্নাতক ডিগ্রি ও নির্দিষ্ট ব্যাংক ব্যালেন্স দেখানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও আইইএলটিএস বাধ্যতামূলক করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
শিক্ষা ও অভিবাসনবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় বা নিয়োগকর্তা আইইএলটিএস মওকুফ করলেও ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের এম্বাসির নিয়মাবলি ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরি।
একই সঙ্গে ভূয়া তথ্য বা প্রলোভনে কান না দিয়ে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটগুলো যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এছাড়া কাজের ক্ষেত্রে সুবিধা পেতে ওই দেশের স্থানীয় ভাষা (যেমন: জার্মান, ফরাসি বা স্প্যানিশ) কিছুটা শিখে রাখা সুবিধাজনক।
