কলম্বোর ননডেসক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাব গ্রাউন্ডে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে এসএলসি একাদশকে ছয় উইকেটে হারিয়েছে ভারত। ম্যাচের শেষ দিনে মোহাম্মদ সিরাজের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে সফরকারী দলটি জয় নিশ্চিত করে। এর আগে ভারত তাদের প্রথম ইনিংসে ৩৫৭ রান করে ৬ উইকেট হারিয়ে ইনিংস ঘোষণা করেছিল। জবাবে এসএলসি একাদশ দুই সেশন ব্যাট করে ভারতের সামনে ২০৭ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে।
ম্যাচের তৃতীয় দিনে এসএলসি একাদশের ব্যাটিংয়ের শুরুতে মোহাম্মদ সিরাজ পঞ্চম ওভারে রবীন্দ্র রাসান্থাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে প্রথম সাফল্য এনে দেন। এরপর অষ্টম ওভারে প্রসিধ কৃষ্ণা প্যাভিলিয়নে ফেরান পাসিন্ধু সুরিয়াবান্দারাকে। নিশান মাদুশকা ৬৩ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন এবং পবন রত্নায়েকে ও আনজালা বান্দারার সাথে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। ২৩তম ওভার শেষে মাদুশকা অবসর নেন। এছাড়া আনজালা বান্দারা ৩৫ এবং নিপুন ধনাঞ্জয়া ৪৬ রান করলেও দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় তারা বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয়। ভারতের হয়ে গুরনুর ব্রার এবং রবীন্দ্র জাদেজা দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারত শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল। অনুশীলনে চোট পাওয়া অধিনায়ক শুভমান গিলকে নিয়ে শঙ্কা থাকলেও, তিনি যশস্বী জয়সওয়ালের সাথে ইনিংস উদ্বোধন করতে নামেন। গিল শুরুতেই বিশ্ব ফার্নান্দোর বলে কভার দিয়ে পরপর দুটি বাউন্ডারি মেরে নিজের ভালো ফর্মের জানান দেন। জয়সওয়াল প্রথম ইনিংসের ব্যর্থতা কাটিয়ে মাত্র ৪৩ বলে পঞ্চাশ রান পূর্ণ করেন। ১৫তম ওভার শেষে জয়সওয়াল অবসর নেন, অন্যদিকে গিল ফিফটির থেকে ছয় রান দূরে থাকতে ২১তম ওভারে আউট হন। ঋষভ পন্ত এবং ধ্রুব জুরেল ৪৫ রান যোগ করে মূল্যবান সময় কাটান।
ম্যাচের শেষটা হয় নাটকীয়। গুরনুর ব্রারের আগের দিনের ছক্কা মারার ধারায় সিরাজ সোনাল দিনিশাকে একটি ছক্কা মারেন। এরপর কেশারা নুয়ান্থার ওভারে টানা তিনটি ছক্কা ও একটি বাউন্ডারি মেরে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন। এই ম্যাচে লোকেশ রাহুল ও দেবদত্ত পাডিক্কাল ব্যাট করার সুযোগ পাননি।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর: এসএলসি একাদশ ৩৬৩/৮ (ডি.) (রবীন্দ্র রাসান্থা ৭১; মানব সুথার ২-৩৩) ও ২০০/৬ (ডি.) (নিশান মাদুশকা ৬৩; গুরনুর ব্রার ২-৩৭) ভারতের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছে। ভারত ৩৫৭/৬ (ডি.) (দেবদত্ত পাডিক্কাল ১৪২; আসানকা মনোজ ৩-৩২) ও ২১৩/৪ (যশস্বী জয়সওয়াল ৬১; কেশারা নুয়ান্থা ২-৫৭)।

