জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি রিয়াদ মানসুর অভিযোগ করেছেন যে, ইসরায়েল বর্তমানে এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে যা পূর্ণাঙ্গ দখলদারিত্বের দিকে ইঙ্গিত করে। তিনি একে 'রুবিকন অতিক্রম করা' বা এমন এক অপরিবর্তনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা আর ফিরে আসার সুযোগ রাখে না। বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মানসুর স্পষ্টভাবে বলেন, ইসরায়েল আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয়।
ফিলিস্তিনি এই প্রতিনিধি ই-১ (E1) এলাকায় নতুন দরপত্র প্রকাশের বিষয়টিকে ফিলিস্তিনি সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার ওপর সরাসরি 'যুদ্ধের শামিল' বলে অভিহিত করেছেন। এই এলাকাটি পূর্ব জেরুজালেমের সাথে অধিকৃত পশ্চিম তীরের সংযোগ স্থাপনের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানসুরের মতে, বর্তমান ইসরায়েলি নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০-দফা শান্তি পরিকল্পনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, ওই শান্তি পরিকল্পনায় দখলদারিত্বকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, যা জাতিসংঘের প্রাসঙ্গিক রেজোলিউশনেও প্রতিফলিত হয়েছে।
ফিলিস্তিনি জাতীয় প্রকল্পকে ধ্বংস করার মাধ্যমে আঞ্চলিক সংকট সমাধানের ইসরায়েলি প্রচেষ্টাকে 'পাগলামি' বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন মানসুর। তিনি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়াকেও প্রত্যাখ্যান করেছেন। মানসুরের দাবি, ইসরায়েলি আদালত ও তদন্ত প্রক্রিয়াগুলো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে অপরাধীদের দায়মুক্তি দিতেই ডিজাইন করা হয়েছে।
বৈঠকে তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য অবিলম্বে 'আন্তর্জাতিক সুরক্ষা' প্রদানের আহ্বান জানান। মানসুর জোর দিয়ে বলেন, যতক্ষণ না একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, ততক্ষণ এই সুরক্ষা প্রয়োজন। তিনি এমন এক মধ্যপ্রাচ্যের স্বপ্ন দেখেন যেখানে সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলো পারস্পরিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি উপভোগ করবে। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের প্রতি তার শেষ সতর্কবাণী ছিল, বিশ্বকে এখনই আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় বর্তমান ট্র্যাজেডি ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিণতির পূর্বাভাস হয়ে থাকবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সবাই মিলে কাজ করলে একটি ভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব।

