লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে কাফার রুম্মানে একটি আবাসিক ভবনে চালানো হামলায় শিশু ও দুই নারীসহ আটজন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া অন্য একটি হামলায় একটি গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো আঘাতে একজন প্যারামেডিক নিহত হয়েছেন।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, মধ্যরাতের পরপরই কাফার রুম্মানের শুয়ুইয়া রাউন্ডঅ্যাবাউটের কাছে তিনতলা বিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে প্রথম বিমান হামলাটি চালানো হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ঘটনায় আটজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও ১১ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চার শিশু ও দুই নারী রয়েছেন। আহতদের মধ্যে ইসলামিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশনের একজন প্যারামেডিকও রয়েছেন, যা হিজবুল্লাহর সাথে যুক্ত একটি জরুরি সেবা সংস্থা।
দ্বিতীয় হামলায় ইসলামিক রিসালা স্কাউট অ্যাসোসিয়েশনের প্যারামেডিকবাহী একটি গাড়ি লক্ষ্য করা হয়। এতে তাদের একজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। রিসালা স্কাউট হিজবুল্লাহর মিত্র আমাল আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত একটি জরুরি সেবা সংস্থা। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই মৃত্যুকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
কাফার রুম্মানের বাসিন্দা সারা মোয়াল্লেম জানান, হামলার সময় তিনি সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তিনি সন্তানদের নিয়ে দ্রুত সেফ রুমে আশ্রয় নেন। নিহতদের মধ্যে তার স্বামীর দূর সম্পর্কের আত্মীয়রা রয়েছেন এবং তিনি দাবি করেন, তারা হিজবুল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই হামলার বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে। তবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে বারবার ড্রোন হামলা এবং দক্ষিণ লেবাননে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই ঘটনাকে বিপজ্জনক উত্তেজনা হিসেবে বর্ণনা করে জুন মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হুমকির মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করেছেন।
উল্লেখ্য, হিজবুল্লাহর সাথে ইরানের সমর্থন রয়েছে এবং গত ২ মার্চ থেকে এই সংঘাত তীব্র হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলমান এই সংঘাতে লেবাননে অন্তত ৪,৩৬২ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৩৯৫ জন নারী ও ২৫৯ জন শিশু। অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, এই সংঘাতে ৪০ জন ইসরায়েলি সেনা ও চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

