বেলজিয়ান দলবদল বিশেষজ্ঞ সাশা তাভোলিয়েরির দাবি অনুযায়ী, এসি মিলানের উইঙ্গার রাফায়েল লিয়াওকে ইতালিয়ান ক্লাব রোমার কাছে ট্রান্সফারের প্রস্তাব দিয়েছেন তার এজেন্ট জর্জে মেন্দেস। লিয়াওয়ের বাজারমূল্য কমে যাওয়া এবং মিলানে ডিয়েগো মোরেরার আগমনকে কেন্দ্র করে এই নাটকীয় মোড় তৈরি হয়েছে।
চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদলে লিয়াও এবং মিলান উভয় পক্ষই আলাদা হওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিল। তবে খেলোয়াড়টির জন্য ৫০ মিলিয়ন ইউরো এবং সাথে আরও ১০ মিলিয়ন ইউরো বোনাসের (অ্যাড-অন) যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেই মূল্যে কোনো ক্রেতা খুঁজে পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। লিয়াওয়ের প্রতি কেবল তুরস্কের ক্লাব গালাতাসারাই, বেসিকতাস এবং ফেনারবাচের আগ্রহ ছিল। এর মধ্যে বর্তমানে কেবল গালাতাসারাই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে দলবদল বিশেষজ্ঞ তাভোলিয়েরি জানিয়েছেন, এজেন্ট জর্জে মেন্দেস সরাসরি রোমার মালিক ফ্রিডকিন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে লিয়াওকে দলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এই দলবদল সম্পন্ন হলে তা হবে ইতালিয়ান ফুটবলের এক বড় চমক। এর ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ ধরে রাখার পাশাপাশি নিজের খেলার ধরনের সঙ্গে মানানসই একজন কোচের অধীনে খেলার সুযোগ পাবেন লিয়াও।
বর্তমানে লিয়াওয়ের দাম কমিয়ে প্রায় ৪০ মিলিয়ন ইউরো এবং সাথে অ্যাড-অন নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মেন্দেসের মধ্যস্থতাতেই অন্তত ৫০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে আরসি স্ট্রাসবার্গ থেকে ডিয়েগো মোরেরাকে মিলানে আনার প্রক্রিয়া চলছে। মোরেরা রোমারও লক্ষ্য ছিল, কারণ তিনি লিয়াওয়ের মতোই একই পজিশনে খেলেন। এজেন্ট মেন্দেস সম্ভবত দলবদলের বাজারে এটিকে একটি চেইন রিঅ্যাকশন বা 'ডমিনো ইফেক্ট' হিসেবে দেখছেন।
সান সিরোতে দীর্ঘ সাত বছর কাটানোর পর ইতালিরই অন্য কোনো ক্লাবে যোগ দেওয়ার বিষয়টি মিলান সমর্থক এবং স্বয়ং লিয়াওয়ের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে গ্রীষ্মের শুরুতে লিয়াও নিজেই জানিয়েছিলেন যে, প্রিমিয়ার লিগ বা লা লিগার তুলনায় সিরি এ তার খেলার জন্য কম উপযোগী। তবে ইংল্যান্ড বা স্পেনের কোনো ক্লাব থেকে প্রস্তাব না আসায়, এই মুহূর্তে রোমায় পাড়ি জমানো সবার জন্যই সেরা সমাধান হতে পারে। এদিকে, রোমা অলিম্পিক লিওঁ থেকে মালিক ফোফানাকে দলে ভেড়াতেও প্রায় সমপরিমাণ অর্থ খরচ করার কথা ভাবছে।

