দলীপ ট্রফিতে ইস্ট জোনের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পর নিজের শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখলেন মোহাম্মদ শামি। ৩৬ বছর বয়স পেরিয়ে গেলেও তার খেলার ক্ষুধা বিন্দুমাত্র কমেনি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতের হয়ে মাঠে নামা এই বোলার ২০২৩ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের পর আর কোনো টেস্ট খেলেননি।
চেন্নাইতে দলীপ ট্রফির ফাইনাল শেষে শামি বলেন, অনুপ্রেরণা খুঁজে নিলে অনেক কিছুই পাওয়া যায়। যেকোনো মাঠে নেমেই ইতিবাচকতা খুঁজে নেওয়া সম্ভব। এই পর্যায়ে এসে যদি কেউ নিজে থেকে অনুপ্রাণিত না হয়, তবে তার দৃষ্টিভঙ্গিই ভুল। যে পর্যায়েই খেলুন না কেন, চোখ সবসময় থাকতে হবে পরের স্তরের দিকে।
নিজের অনুপ্রেরণার মূলমন্ত্র ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শামি বলেন, আমি সবসময় বলি, আপনি খেলছেন একটি ব্যাজ বা প্রতীকের জন্য। বুকে যখন সেই প্রতীক থাকে, তখন কোন স্তরের ক্রিকেট খেলছেন তা বড় কথা নয়। প্রতীকের জন্য খেললে সেই ক্ষুধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকাশ পাবে। গর্ব নিয়ে খেললে লড়াই করার ইচ্ছাও বেড়ে যায়। আমার মানসিকতা খুব সহজ, যে পর্যায়েই খেলার সুযোগ পাব, তা কাজে লাগিয়ে দলের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালন করতে চাই।
চিপকের পিচ ব্যাটারদের অনুকূলে থাকলেও শামি নতুন বলে সুইং এবং পুরোনো বলে রিভার্স সুইংয়ে দারুণ কার্যকর ছিলেন। সাউথ জোনের ব্যাটারদের বিপক্ষে তিনি এবং মুকেশ কুমার মিলে পাঁচটি উইকেট নেন। তাদের বোলিং তোপে সাউথ জোন ৩৩৬ রানে গুটিয়ে যায় এবং ইস্ট জোন বড় ব্যবধানে প্রথম ইনিংসের লিড নিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে।
শামি বলেন, আমি সবসময় শিখছি এবং শিখতে চাই। এই ধরনের কন্ডিশনে খুব বেশি সুইং আশা করা যায় না, বাউন্সও ছিল বেশ নিচু। আমি আমার লাইন ও লেন্থের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখি, সেখান থেকেই উইকেট বের করার চেষ্টা করি। আর এই গরমে যদি রিভার্স সুইং কাজে না লাগানো যায়, তবে খেলার মানে কী? তিনি আরও যোগ করেন, সেট হওয়া ব্যাটারদের পরিকল্পনা ছাড়া আউট করা কঠিন। এই ধরনের পিচে উইকেট এমনি এমনি আসে না। শাইক রশিদের উইকেট নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাকে বারবার বলের বাইরে রেখে প্রত্যাশা তৈরি করা এবং তারপর হঠাৎ ভেতরে আসা বলে তাকে ফাঁদে ফেলা।
ম্যাচের এক পর্যায়ে ইশান কিষাণ মাঠের বাইরে থাকায় অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করা ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশী শামির এই কৌশল দেখে এতটাই রোমাঞ্চিত ছিলেন যে, তিনি বোলারের পিঠে চড়ে বসেন। শামি মজা করে বলেন, ও আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করতে ভালোবাসে। আমি পাল্টা বলি, ওর বয়স আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের দৈর্ঘ্যের সমানও নয়। তবে ওর সাথে এই খুনসুটি দারুণ। নতুনদের সাথে খোলামেলা মিশে যাওয়া এবং বন্ধুত্ব গড়ে তোলা তাদের ভবিষ্যতের জন্য ভালো। আমি সবসময়ই চাই খেলোয়াড়রা দলের সবার সাথে খোলামেলা কথা বলুক।
তরুণ খেলোয়াড়দের সম্পর্কে শামি বলেন, এদের অনেকেই এখন বেশ পরিণত। আইপিএল ও অন্যান্য উচ্চচাপের টুর্নামেন্টে খেলার কারণে তাদের মধ্যে দ্রুত পরিপক্কতা আসে, তাই বাড়তি কোচিংয়ের প্রয়োজন হয় না। তবে খেলা যখন কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে, তখনই কেবল কৌশলগত পরামর্শ দিয়ে তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করি।

