বাংলাদেশের অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের জন্য অস্ট্রেলিয়া সফরটি অত্যন্ত বিশেষ। দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এই প্রথমবার তিনি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। ডারউইনের ডিএক্সসি এরিনায় (যা মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ড নামে পরিচিত) বাংলাদেশ দলের প্রথম অনুশীলনে যোগ দিয়ে তিনি যেন এক নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। আগামী ১৩ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটির ভেন্যু এই মাঠ।
বাংলাদেশ দল ২০০৩ সালের পর এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ খেলতে গেছে। দলের প্রথম অংশ শনিবার ডারউইনে পৌঁছালেও লিটন দাসসহ বাকিরা ২ আগস্ট ঢাকা ত্যাগ করেছেন এবং দ্রুতই দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। অনুশীলনের প্রথম দিন থেকেই মুশফিকুর রহিমকে নেটে দীর্ঘ সময় কাটাতে দেখা গেছে। বাংলাদেশের বিখ্যাত 'ফ্যাব ফাইভ'-এর একমাত্র সদস্য হিসেবে তিনি এখনো মাঠের লড়াইয়ে নিজেকে পুরোপুরি নিবেদিত রেখেছেন। তার সমসাময়িক মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বর্তমানে ভিন্ন ভিন্ন পথে হাঁটছেন।
সাকিব আল হাসান, যিনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ছেড়েছেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে ব্যস্ত থাকলেও তার রাজনৈতিক পরিচয় বড় হয়ে উঠেছে। মাশরাফি বিন মর্তুজা, যিনি ২০১৮ সালে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন, তিনিও অনেকটা আড়ালে। তামিম ইকবাল বিসিবির দায়িত্ব নিয়েছেন এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বর্তমানে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গে কাজ করছেন এবং অস্ট্রেলিয়ায় টি-২০ সিরিজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর বিপরীতে, মুশফিকুর রহিম এখনো তার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বজায় রাখা কঠোর পরিশ্রমের ধারা অব্যাহত রেখেছেন। ৩৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার বাংলাদেশের হয়ে ১০০টিরও বেশি টেস্ট খেলেছেন, অথচ অস্ট্রেলিয়ায় খেলার সুযোগটি তার কাছে অধরা ছিল।
২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর মুশফিকুর আশা করেছিলেন যে হয়তো দ্রুতই অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার সুযোগ মিলবে, কিন্তু সেই অপেক্ষার সময় প্রায় এক দশকে গিয়ে ঠেকে। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেছেন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। অস্ট্রেলিয়ায় খেলার জন্য তিনি হালকা ব্যাটের ব্যবহার নিশ্চিত করেছেন যাতে উইকেটের চারপাশ ব্যবহার করে শট খেলতে সুবিধা হয়। এছাড়া প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের মতো পেসারদের ইনসুইং সামলানোর জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি।
বিসিবির প্রধান নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার মনে করেন, মুশফিকুরের এই কঠোর পরিশ্রমের পুরস্কার পাওয়ার সময় হয়েছে। তার মতে, মুশফিকুরের জন্য এটি সম্ভবত অস্ট্রেলিয়ায় শেষ টেস্ট সিরিজ এবং নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের এই স্বপ্ন পূরণ হওয়াটা তার প্রাপ্য। মুশফিকুর নিজেও প্রতিটি মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে চান, কারণ তিনি জানেন এমন সুযোগ হয়তো আর আসবে না।

