এনবিসি-র জনপ্রিয় উপস্থাপক সাভানা গুথরির মা ৮৪ বছর বয়সী ন্যান্সি গুথরির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ছয় মাসের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গত ৩১ জানুয়ারি রাত ১০টার ঠিক আগে অ্যারিজোনার টুসনে নিজের বাড়িতে প্রবেশ করার পর থেকেই তাকে আর দেখা যায়নি। তার পরিবার পরের দিনই তাকে নিখোঁজ ঘোষণা করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাটিকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সাবেক গোয়েন্দা ও বর্তমান বেসরকারি তদন্তকারী মাইক টথ মনে করেন, ন্যান্সি গুথরির এই মামলাটি হয়তো কখনোই পুরোপুরি বন্ধ হবে না। তার মতে, তদন্তকারীরা যতক্ষণ নতুন কোনো সূত্র বা প্রমাণ পাচ্ছেন, ততক্ষণ তারা অনুসন্ধান চালিয়ে যাবেন। তিনি বলেন, কোনো নতুন তথ্য বা সাক্ষীর সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত মামলাটি ঝুলে থাকতে পারে, যা অনেক ক্ষেত্রে কয়েক বছরও সময় নিতে পারে।
ঘটনার পরদিন ২ ফেব্রুয়ারি পিমা কাউন্টির শেরিফ ক্রিস ন্যানোস ন্যান্সির বাড়িটিকে একটি 'অপরাধের স্থান' হিসেবে ঘোষণা করেন। কিন্তু ৩ ফেব্রুয়ারি দ্য অ্যারিজোনা রিপাবলিকের সাংবাদিক ক্লারা মিগোয়া ও রিচার্ড রুয়েলাস বাড়িটিতে গিয়ে দেখেন যে, সেখানে কোনো হলুদ টেপ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়নি এবং বাড়িটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এমনকি বারান্দায় ন্যান্সির নামে আসা একটি অ্যামাজন প্যাকেজও পড়ে ছিল।
মাইক টথ সতর্ক করে বলেন, নিখোঁজ হওয়ার প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা প্রমাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে কিছু প্রক্রিয়া সঠিকভাবে পালন করা হয়নি বলে তিনি মনে করেন। তবে এফবিআইয়ের সম্পৃক্ততা এই তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তারা একটি ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করেছে যেখানে একজন মুখোশধারী ও অস্ত্রধারী ব্যক্তিকে ঘটনার রাতে দরজার ক্যামেরার সাথে কারসাজি করতে দেখা গেছে। টথের মতে, এফবিআইয়ের বিশ্বমানের ফরেনসিক ল্যাবের সহায়তা এই ধরনের জটিল মামলার ক্ষেত্রে বিরল সুযোগ, যা অন্য অনেক সংস্থাই পায় না।
এদিকে এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল গত ২৩ জুলাই ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানান, তদন্তে বিলম্বের কারণে হয়তো গুরুত্বপূর্ণ দরজার ক্যামেরার ফুটেজ হারিয়ে গেছে। অন্যদিকে, মুক্তিপণের বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই গণমাধ্যমের কাছে মুক্তিপণের নোট পাঠানো হয়েছিল। জুন মাসে টিএমজেড জানায়, তারা তৃতীয় একটি মুক্তিপণের চিঠি পেয়েছে যেখানে ন্যান্সিকে একটি 'নিরাপদ স্থানে' আটকে রাখার দাবি করা হয়েছে। যদিও শেরিফ ন্যানোস এই নোটগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, তবে ফিনিক্সের এফবিআই কার্যালয় ১ জুলাই এক আপডেটে জানিয়েছে যে তারা এগুলোকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেয়নি।
তদন্ত ধীর হয়ে এলেও, টথ মনে করেন কর্তৃপক্ষ হয়তো এমন কিছু তথ্য গোপন রাখছে যা তারা এখনও প্রকাশ করেনি। তিনি জানান, ভুয়া দাবিদারদের এড়াতে তদন্তকারীরা প্রায়ই নির্দিষ্ট কিছু তথ্য চেপে যান। ন্যান্সির মৃত্যু সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু প্রমাণিত না হলেও, তদন্তকারীরা সম্ভবত পর্দার আড়ালে তাকে মৃত বলেই ধরে নিয়েছেন। তবে অপরাধী শনাক্ত করা গেলে ন্যান্সির মরদেহ ছাড়াই হত্যার বিচার সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

