ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন যে, তার শাসনামলে গাজা বা অধিকৃত পশ্চিম তীরে কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠিত হতে দেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যতদিন তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকবেন, ততদিন কোনোভাবেই ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হতে দেবেন না।
নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এসেছে ইউনাইটেড আরব লিস্টের নেতা মনসুর আব্বাসের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়। আব্বাস দাবি করেছিলেন, ফিলিস্তিন ইতিমধ্যে একটি রাষ্ট্র হিসেবে বিদ্যমান এবং বিশ্বের অধিকাংশ দেশই একে স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। শনিবার আরব শহর তাইবেতে নিজ দলের সাধারণ সম্মেলনে আব্বাস বলেন, তার দল ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
নেতানিয়াহুর এই কঠোর অবস্থান এমন এক সময়ে এলো যখন আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নেসেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলো নেতানিয়াহু ও তার লিকুদ পার্টির জন্য সুখকর নয়। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের তুলনায় লিকুদ ও তাদের জোট সঙ্গীরা বেশ পিছিয়ে রয়েছে।
সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, লিকুদ পার্টি বর্তমানে বড় ধরনের সংকটে রয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত একটি জরিপে দেখা গেছে, দলটি মাত্র ২০টি আসন পেতে পারে, যেখানে বর্তমানে তাদের দখলে রয়েছে ৩২টি আসন। এর আগে ১৯ আগস্ট চ্যানেল ১৩-এর এক জরিপেও দেখা গিয়েছিল, নেতানিয়াহুর লিকুদ এবং তাদের কট্টর ডানপন্থী ও অতি-অর্থোডক্স মিত্ররা মিলে মাত্র ৫১টি আসন পেতে পারে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে ১০টি কম।

