ওড়িশা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (ওসিএ) নির্বাচন এবং জাতীয় ক্রীড়া শাসন আইনের প্রয়োগ নিয়ে চলমান আইনি লড়াইয়ে এক নাটকীয় মোড় এসেছে। অ্যাসোসিয়েশনের আগের অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ সরে এসে প্রায় এক বছর ধরে বকেয়া থাকা নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি পঙ্কজ লোচন মহান্তি।
বৃহস্পতিবার ওড়িশা রাজ্য হাইকোর্টে দেওয়া এক হলফনামায় পঙ্কজ লোচন মহান্তি জানান, ওড়িশা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (বিসিসিআই) অবস্থানের বাইরে গিয়ে কোনো ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কারণ বিসিসিআইয়ের অবস্থান তাদের মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন এবং নিয়মকানুনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এর আগে ওড়িশা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন হাইকোর্টে দাবি করেছিল যে, নির্বাচন আয়োজনের আগে জাতীয় ক্রীড়া আইনের প্রভাব মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে তারা কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একটি সুপারিশের বরাত দিয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্রীড়া সংস্থাগুলোর নির্বাচন স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছিল।
তবে বিসিসিআই আদালতকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ওসিএ-কে অবিলম্বে নির্বাচন করতে হবে। তা না হলে এটি ওসিএ-র নিজস্ব উপ-আইন, বিসিসিআইয়ের নিয়মাবলী এবং ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার স্পষ্ট লঙ্ঘন হবে।
এই বিষয়ে ক্রিকবাজকে পঙ্কজ লোচন মহান্তি বলেন, আমার আইনজীবীরা আদালতে জানিয়েছেন যে আমরা বিসিসিআইয়ের বিরুদ্ধে যেতে পারি না। এটি আমাদের অভিভাবক সংস্থা। বিসিসিআই আমাদের অনুদান দেয় এবং আমরা তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গেলে তহবিল হারানো ও স্বীকৃতি বাতিলের ঝুঁকিতে পড়ব। নির্বাচনের পক্ষে তার অবস্থান কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি বলেন, আমি বিসিসিআইয়ের পক্ষেই আছি।
হলফনামায় ক্রীড়া আইনের কার্যকারিতা নিয়েও কথা বলেছেন মহান্তি। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের কোনো রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাই জাতীয় ক্রীড়া শাসন আইন, ২০২৫-এর আওতায় পড়ে না। বিসিসিআই তাদের হলফনামায় জানিয়েছে, আইনটি পাস হলেও ক্রিকেটকে এখনও এই আইনের অধীনে নির্দিষ্ট খেলা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি। তাছাড়া বিসিসিআই কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে কোনো তহবিল পায় না এবং এটি একটি স্বাধীন সংস্থা, তাই এই আইন বিসিসিআইয়ের ওপর প্রযোজ্য নয়।
এদিকে ওসিএ-র বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সংস্থাটির সম্পাদক সঞ্জয় বেহেরা, কোষাধ্যক্ষ বিকাশ প্রধান এবং স্বয়ং সভাপতি মহান্তি প্রত্যেকেই ছয় বছরের বেশি সময় ধরে নিজেদের পদে বহাল আছেন। অথচ তাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা পরপর দুই মেয়াদের (প্রতি মেয়াদ তিন বছর) বেশি দায়িত্বে থাকতে পারেন না।
শুক্রবার মুম্বাইয়ে বিসিসিআইয়ের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ওসিএ-র প্রতিনিধিত্ব করছেন সম্পাদক সঞ্জয় বেহেরা। ধারণা করা হচ্ছে, বিসিসিআই এই সভায় ওসিএ-কে নতুন নির্দেশনা বা পরামর্শ দিতে পারে। হাইকোর্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২২ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছে।

