পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ২০২৬-২৭ ঘরোয়া মৌসুম থেকে ওয়াপদা ও সাহির অ্যাসোসিয়েটসকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পিসিবি জানিয়েছে, জুন মাসে প্রবর্তিত নতুন নিয়মগুলো মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রথম শ্রেণির চ্যাম্পিয়ন দল ওয়াপদা পাকিস্তানের অন্যতম পুরনো বিভাগীয় ক্রিকেট দল।
আসন্ন প্রেসিডেন্টস ট্রফি এবং প্রেসিডেন্টস কাপে এই দুই দলের জায়গায় খেলবে ওজিডিসিএল এবং কিংসম্যান একাডেমি। পিসিবির মতে, ঘরোয়া ক্রিকেটের মান উন্নয়ন এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে এই নিয়মগুলো জরুরি ছিল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পিসিবি দল এবং খেলোয়াড়দের মধ্যকার আর্থিক লেনদেন, মাসিক বেতন ও ম্যাচ ফি অডিট করার ক্ষমতা পেয়েছে। এছাড়া বিভাগীয় দলগুলোকে খেলোয়াড়দের বছরব্যাপী চুক্তি, থাকার ব্যবস্থা, দৈনিক ভাতা এবং ফিটনেস কর্মসূচির নির্দেশিকা মানতে হবে।
তবে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় ছিল অংশগ্রহণ ফি তিনগুণ বাড়িয়ে ১৫ মিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি করা। বিষয়টি নিয়ে পিসিবি ও বিভাগীয় দলগুলোর মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ (কেআরএল), পাকিস্তান টেলিভিশন (পিটিভি), গনি গ্লাস, এমআইটি সলিউশনস, স্টেট ব্যাংক অফ পাকিস্তান (এসবিপি) এবং সুই নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইনস লিমিটেড (এসএনজিপিএল) অংশগ্রহণ ফি বৃদ্ধির শর্ত মেনে নিয়েছে। পিসিবি তাদের লাইভ স্ট্রিমিংয়ের উৎপাদন খরচ, মাঠ ভাড়া এবং বলের খরচ বহন করার নিশ্চয়তা দিয়েছে।
ওয়াপদার পক্ষ থেকে অংশগ্রহণ ফি পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হলেও, পিসিবির এক কর্মকর্তার মতে, ওয়াপদা ও সাহির অ্যাসোসিয়েটস মূলত খেলোয়াড়দের চুক্তি, বেতন ও ম্যাচ ফি পিসিবির নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। কেআরএলও শুরুতে অংশগ্রহণ ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে দল তুলে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল, তবে পিসিবির সাথে আলোচনার পর মঙ্গলবার তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মৌসুমে প্রেসিডেন্টস ট্রফির পয়েন্ট টেবিলের তলানির দল রেলিগেশনের শিকার হয় এবং গ্রেড-২ টুর্নামেন্টের বিজয়ী দল প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়।

